Latest News

বাস পাঠায়নি পরিবহণ দফতর, কলকাতার সম্মেলনে আসতে পারলেননা সাঁওতালরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজই ছিল কলকাতার রাণী রাসমণি রোডে সারি ধরমের যৌথ মঞ্চের ডাকে সম্মেলন। সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ৫৬টি বাসের। সেইমতো সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য পরিবহন দফতরকেও বাস দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। টাকাও দেওয়া হয়েছিল সংস্থাকে। কিন্তু দাবিমতো বাস পাঠায়নি সরকারি পরিবহন সংস্থা। তাই, কলকাতায় সম্মেলনে যোগ দেওয়া ওঠেনি যৌথ মঞ্চের সদস্যদের। ফলে, রবিবার টাকা দিয়েও দাবিমতো বাস না পাঠানোর অভিযোগে রাস্তায় নামলেন ১৭টি সাঁওতাল গণ-সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ‘সারি ধরম কোর কমিটি’র সদস্যরা। এদিন কলকাতা আসলেন না পারায় তাঁদের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্মেছে।

রবিবার সকালে বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের উপর রাইপুর সবুজ বাজারের কাছে অবরোধ শুরু করেন মঞ্চের সদস্যরা। এদিনের এই অবরোধে দীর্ঘক্ষণ বহু গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়ে। ওই সড়কে যানজট শুরু হয়। যাত্রীরাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

অবরোধকারী সারি ধরম কোড কমিটি’র সদস্যদের অভিযোগ, এদিন কলকাতার রাণী রাসমনি রোডে যৌথ মঞ্চের তরফে ‘সারিধরম মহাসম্মেলনে’র ডাক দেওয়া হয়ে ছিল। সেই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য জঙ্গলমহলের রাইপুরমুলুকে সারিদের সংগঠন ৫৬টি বাস রাজ্য পরিবহণ সংস্থার থেকে বুক করে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকাও আগাম দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী বাস পাঠানো হয়নি।

মঞ্চের সদস্যদের আরও অভিযোগ, শনিবার দুপুর ২টো থেকে ৩ টে পর্যন্ত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর কথা ছিল বাসগুলির। কিন্তু তা হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষা করে শেষে রবিবার ভোরে ১৪টি বাস পাঠায় সরকারি পরিবহণ সংস্থা। তবে মাত্র ১৪ টি বাসই পাঠানো হয় এদিন। তাই এত অল্প সময়ে কলকাতায় সম্মেলনে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি মঞ্চের সদস্যদের। ফলে তাঁরা সরকারী অসহযোগীতার অভিযোগে তুলে রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা বলে দাবি করা হয়েছে।

অবরোধকারী বিমল সরেন, বিপ্লব সরেনের অভিযোগ, ”আমরা ভারত জাকাত মাঝি পরগনামহল থেকে এসছিলাম। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে আমাদের ‘সারি ধরম সম্মেলনে’ যেতে দেওয়া হলনা। এই ঘটনা সেকথাই প্রমাণ করে। আর তারই প্রতিবাদে আমাদের এই পথ অবরোধ।” একই সঙ্গে বাসের জন্য দেওয়া আগাম টাকাও দাবি করেছেন। সারি ধরমের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে রাজ্য বিধানসভায় বিল আনার দাবিতে তাঁরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রাজ্য সরকার তাঁদের এইভাবে রোখার বৃথা চেষ্টা করল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এব্যাপারে পরিবহন দফতর থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

You might also like