Latest News

‘বিট্রে করতে পারব না’, রাষ্ট্রপতি ভোট নিয়ে কী বলতে চাইলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথের বিকেলে ইস্কনের উঠোনের দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (Presidential election) নিয়ে তাৎপর্যপূর্ন মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপি তথা এনডিএ-এর দ্রৌপদী মুর্মুর ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘তিনি আদিবাসী, মহিলা। আদিবাসী সম্পর্কে সেন্টিমেন্ট রয়েছে। বিজেপি আগে জানালে ভেবে দেখতাম।’

ওই মন্তব্যের পর বিরোধী পরিসরেও মমতা তথা তৃণমূলের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সোমবার সে ব্যাপারে ধোঁয়াশা কাটাতে চাইলেন মমতা।

এদিন একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাঞ্চলীয় কনক্লেভে মুখোমুখি হয়েছিলেন দিদি। সেখানেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বিরোধী ঐক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, ‘দেশ চাইছে সব বিরোধীরা একজায়গায় হোক। বৃহত্তর স্বার্থে, সঙ্কীর্ণ মানসিকতা দূরে সরিয়ে রেখে সেই ঐক্য এখন সময়ের দাবি।’

এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দ্রৌপদী মুর্মুর বিষয়ে আপনি বলেছেন, বিজেপি আগে জানালে ভেবে দেখতেন। তিনি মহিলা, আদিবাসী। জবাবে মমতা বলেন, ‘আমরা কাস্ট পলিটিক্স চাই না। কিন্তু আগে জানালে ভেবে দেখা যেত। রাষ্ট্রপতি হল সর্বচ্চ পদ। সেখানে সবাই একমত হয়ে একজনকে দাঁড় করালে ভাল হতো। আমি মনে করি আগে বিজেপি যদি জানাত, তাহলে আমরা একজায়গায় বসে আলোচনা করে একটা ঐক্যমতে পৌঁছতে পারতাম।’

স্বাভাবিক ভাবেই পরবর্তী প্রশ্ন আসে, দ্রৌপদীকে কি সমর্থন করবেন? মমতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘কোনও প্রশ্নই নেই। কারণ আমি বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের অংশীদার। আমি বিট্রে করতে পারব না। তাহলে আমায় আপনারাই বলবেন বিট্রে করেছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের একজায়গায় করে একজন শক্তপোক্ত প্রার্থী দাঁড় করানোর ভিতপুজো করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের সেই বৈঠকে নাম চূড়ান্ত হয়নি ঠিকই, কিন্তু শুরুটা হয়েছিল দিদির হাত ধরেই। ১৭টি পার্টি একজায়গায় এসেছিল। পরে সমর্থন দিয়েছে তেলেঙ্গানার শাসকদল টিআরএসও। শুধু তাই নয়। শেষবেলায় সমর্থন দিলেও যশবন্তকে নিয়ে প্রচারের শুভমহরৎটা হয়েছে তেলেঙ্গানাতেই।

বিরোধীদের প্রার্থী যশবন্তকে আনতে গোটা ক্যাবিনেট নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন কেসিআর। তারপরেই নরেন্দ্র মোদী নেমেছিলেন হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে। কিন্তু মোদী পৌঁছনোর আগেই বিমানবন্দর ছাড়ে টিম কেসিআর।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিরোধীদের ঐক্য এখনও ছেলেবেলা পার করেনি। আপ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মতো অ-বিজেপি দলও দ্রৌপদীকে সমর্থন করে দিয়েছে। অনেকের মতে, বিজেপি এখন বিরোধী শিবিরে আরও অবিশ্বাস ও সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইবে। তার জন্য অ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ফোকাস করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং চাইবে গেরুয়া শিবির। সেদিক থেকে বাংলায় তৃণমূলের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এখানে ক্রস ভোটিং হলে স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন দিক থেকে তা হয়েছে। কারণ বাম বা কংগ্রেস বিধায়করা নেই। একমাত্র যিনি আছেন, সেই নৌসাদ সিদ্দিকিও ভোট দেবেন না।

তবে মমতা এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এবং দলের সমর্থন যাবে যশবন্তের দিকেই।

You might also like