Latest News

মমতার মাস্ট্রারস্ট্রোক? গিরিরাজের সঙ্গে দেখা করার সময় চাইলেন শুভেন্দু-সুকান্ত!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কী বলা যাবে একে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মাস্টারস্ট্রোক?
বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানালেন, একশ দিনের প্রকল্পে কাজ করে যে গরিব মানুষের নায্য পাওনা রয়েছে, তাঁরা যাতে টাকা পান তার আর্জি জানাবেন তাঁরা। এজন্য তিনি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের (Giriraj Singh) কাছে সময় চেয়েছেন। এ ব্যাপারে এদিন গিরিরাজের সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

ঘটনা হল, মঙ্গলবার রাতে গিরিরাজ ফোন করেছিলেন বাংলার পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে। তখনই গিরিরাজ জানিয়েছেন, একশ দিনের কাজে বাংলার বকেয়া টাকা শিগগির মিটিয়ে দেওয়া হবে। এর পরই গিরিরাজের সময় চাইলেন সুকান্ত-শুভেন্দু!

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কিছুটা প্যাঁচে পড়েই হয়তো একশ দিনের কাজে অনিয়মের অভিযোগে বাংলার বকেয়া পাওনা টাকা অনেকদিন ধরেই আটকে রেখেছে মোদী সরকার। আবার অনিয়মের টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র যাতে বাংলাকে টাকা না দেয় সেজন্য লাগাতার দিল্লিকে চিঠি লিখেছেন শুভেন্দু। এমনকি আদালতেও গেছেন তিনি। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন গত এক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রচারই করেন যে, বিজেপির কারণেই বাংলার গরিব মানুষ একশ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছে না। অর্থাৎ মমতা এই ধারনা তৈরি চেষ্টা করেন যে বিজেপির জন্য বাংলার গরিব মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইনডোরের সভায় এও বলেন যে, “কেউ কেউ রয়েছে যাঁরা বাংলার খাচ্ছে, বাংলার পড়ছে আর রোজ দিল্লিকে চিঠি লিখে বলছে যে বাংলাকে টাকা দিও না!”

আরও পড়ুন: কেন্দ্র মতলব আঁটছে! সংসদে জবরদস্তি চলতে পারে না: মমতা

অনেকের মতে, শুভেন্দুদের আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লি এবার যখন টাকা রিলিজের পথে তখন বেকায়দায় পড়ে গেছে রাজ্য বিজেপি। কারণ, তাঁরা আন্দাজ করছেন এর রাজনৈতিক ক্রেডিট কিছুই পাবেন না। বরং উল্টে তৃণমূল এটাই প্রচার করবে যে বিজেপি টাকা আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি।

এখানে আরও একটা বিষয় প্রাসঙ্গিক। তা হল, একশ দিনের প্রকল্প তথা মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার যোজনা চালু হয়েছিল সংসদের আইন পাশ করিয়ে। তাতে বলা হয়েছে, বছরে অন্তত ১০০ দিন কাজ পাওয়া গরিব মানুষের অধিকার। কাজের পর দ্রুত মজুরি পাওয়াও অধিকার। ফলে একশ দিনের কাজ প্রকল্পে টাকা আটকে সেই আইনের লঙ্ঘনও হচ্ছে বলে অনেকের মত।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এদিনও বলেছেন যে গিরিরাজের ফোন আসলে চালাকি ছাড়া কিছু নয়। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দেরি করে এমন সময়ে টাকা ছাড়া হবে যখন অর্থবর্ষ শেষ হয়ে আসছে। তার পর মার্চের মধ্যে টাকা খরচ হয়নি বলে অজুহাত দেখিয়ে গোল পাকানোর চেষ্টা করবে। মমতার কথায়, ‘বছরের শেষে টাকা দিয়ে লাভটা কী? অর্থবছর শেষ হয়ে যাবে, তার মধ্যে টাকা খরচ করা যাবে না। তখন তাঁরা (পড়ুন কেন্দ্র) বলবেন, আমরা দিলাম, ওরা কাজ করল না।’

You might also like