Latest News

ইভিএমেই পুর ভোট, দিদি বলেছিলেন ‘মেশিন নয়, পেপার ব্যালট ফেরাও’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন জানিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত তারিখে সায় দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়ার ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি শুধু বাকি রয়েছে। তবে ২০১৯ সালের জুন মাসে যে ভাবে পুর ভোট ইভিএমের বদলে পেপার ব্যালটে করানোর দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একুশে তৃণমূল সেসব নিয়ে কিছু বলছে না।

কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা, হাওড়া তো বটেই, পরে যে শতাধিক পুরসভা ও পুরনিগমের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেগুলিও ইভিএমেই হবে। ব্যালটের কোনও গল্প নেই।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল। রাজ্যে ১৮টি আসন জিতেছিল বিজেপি। তারপর জুন মাসে নজরুল মঞ্চে রাজ্যের সব পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা। সেই বৈঠকেই তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘এই ইলেকশন (উনিশের লোকসভা) চিটিংবাজির ইলেকশন হয়েছে। আগামী দিনে সব বেরোবে।’
পরের মাসেই ছিল একুশে জুলাইয়ের সভা। তখনও কোভিড আসেনি দুনিয়ায়। নজরুল মঞ্চ থেকেই একুশে জুলাইয়ের স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন দিদি। বলেছিলেন, ‘এ বার একুশে জুলাইয়ের স্লোগান একটাই, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও- মেশিন নয় পেপার ব্যালট দাও।”
তৃণমূলনেত্রীর বক্তব্য ছিল, পেপার ব্যালটে ভোট করানোর দাবিতে জোরদার আন্দোলন শুরু করবে দল।

২০২০ সালে পুরভোট হওয়ার কথা ছিল রাজ্যে। কিন্তু কোভিডের কারণে তা হয়নি। একুশে বিধানসভা ভোট ইভিএমেই হয়েছিল বাংলায়। দিদি সব প্রচারে গিয়ে বলতেন, স্ট্রং রুম ভাল করে পাহারা দিতে হবে। নিজেরা খাবার নিয়ে যাবেন। ওরা কিছু দিলে খাবেন না। ওরা কিন্তু ডেঞ্জারাস। খাবারে কিছু মিশিয়ে দিয়ে মেশিন পাল্টে দিতে পারে।

কিন্তু দেখা যায়, বিধানসভা ভোটে ২১৩ পেয়ে সরকারে এসেছে তৃণমূল। তারপর এখন যখন পুর ভোট দুয়ারে তখন সেই ব্যালটের দাবিও খুব একটা শোনা যাচ্ছে না শাসকদলের মুখে। দু’বছর আগে যে ব্যাপারে রণংদেহি মেজাজ ছিল দিদির।
এ নিয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “তৃণমূলনেত্রীকে এবার তাহলে বলতে হবে উনিশ সালে ওসব কথা বলে ভুল করেছিলেন। মানুষের রায়কে অপমান করেছিলেন। আর নইলে বুঝতে হবে, এবার তৃণমূল ইভিএম হ্যাক করার রপ্ত করেছে।’ জয়প্রকাশ আরও বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি এবার পুর ভোট হবে পুরনো ভার্সানের মেশিন দিয়ে। তৃতীয় এডিশনের মেশিনগুলিকে সুপ্রিম কোর্ট সিলমোহর দিয়েছিল। আমাদের কাছে খবর রাজ্যে পুর ভোট হবে টাইপ-টু মেশিন দিয়ে। এর পিছনে প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্ক থাকতে পারে। আমরা কমিশনে যা বলার বলব।’

ইভিএমের সঙ্গে পুর ভোট সামলানোর দায়িত্ব থাকবে রাজ্য পুলিশের কাঁধেই। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে না শহরবাংলার ভোটে। যা নিয়েও তৃণমূলের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, ভোট লুঠের বন্দোবস্ত করতেই রাজ্য পুলিশকে দিয়ে ভোট করাতে চাইছে কেন্দ্র।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like