Latest News

রাজ্যপাল পরিবর্তন চেয়েছিলেন, এখন রাজ্যপালেরই পরিবর্তন হোক, ধনকড়কে খোঁচা কুণালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাল মহুয়া মৈত্র তো আজ কুণাল ঘোষ। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যখন কলকাতা থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে রয়েছেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোয় যেন ছেদ ফেলতে চাইছে না তৃণমূল।

এদিন রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ টুইটারে লিখেছেন, “রাজ্যপাল ভোটের আগে বাংলায় পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তা মুখ্যমন্ত্রী আর সরকারের পরিবর্তন তো হল না। তাহলে বরং এখন রাজ্যপালই পরিবর্তিত হোন। জগদীপবাবু বলতে পারবেন, বলেছিলাম না পরিবর্তন হবে !!!”

জগদীপ ধনকড়কে রাজ্যপালের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ভোটের আগে থেকেই সরব তৃণমূল। জোড়া ফুলের প্রতিনিধিরা গিয়ে রাইসিনা পাহাড়ে এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি সনদ পেশ করেছিলেন। মহুয়া মৈত্র বলেছেন, “আমাদের একটা উপকার করুন। আপনি আর ফিরবেন না!” এদিন কুণালও কার্যত সেই সুরেই কটাক্ষ করলেন রাজ্যপালকে।

সার্বিক ভাবে গোটা দেশেই বিজেপি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজ্যে রাজ্যে রাজ্যপালের পদে সংঘ পরিবারের পেটোয়া লোককে বসিয়ে রেখেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। মহারাষ্ট্র ভোটের পর ভগৎ সিং কোশিয়ারি কিংবা কেরল বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ আটকাতে রাজ্যপাল আরিজ মহম্মদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। তৃণমূলও তেমন ধনকড়ের ভূমিকা নিয়ে সরব এবং জাতীয় স্তরে তা তুলে ধরার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

শুধু কি তৃণমূল! ভোটের পর ভোল বদলে সিপিএম তথা বামফ্রন্টও এখন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব। এদিনই সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, ‘রাজ্যপাল তো সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। তিনি তো বিজেপির লোক নন। কিন্তু তিনি এমন সব কাজ করছেন যাতে মনে হচ্ছে তিনি বিজেপির-ই লোক!’

বিমানবাবুর এ হেন কথায় অনেকেই ৩১ নম্বর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজফফর আহমেদ ভবনে ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের সুর শুনতে পাচ্ছেন। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে খোঁচা দিলেন কুণাল। রাজ্যপালের মেয়াদ এখনও প্রায় তিন বছর বাকি। বলাই বাহুল্য, কেন্দ্রীয় সরকার এখনই রাজ্যপালকে অপসারণ করবে না। ফলে, যত দিন গড়াবে তত শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে আরও তীব্র হবে রাজ্যপালের সংঘাত, এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।

You might also like