Latest News

অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল: ভাইপো পাশ, পিসি ফেল, বলছে বিরোধীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুলটস বলটা দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেটাকেই এবার বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে শুরু করল বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী একযোগে বলেছেন, এর অর্থ একটাই, ডায়মন্ড হারবারে ভাইপো পাশ করেছেন আর গোটা রাজ্যে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পিসি ফেল করেছেন।

যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল কথাটা একটা আরোপিত শব্দবন্ধ। সব জায়গাতেই আমাদের জনপ্রতিনিধিরা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিজেদের এলাকায় কোভিড মোকাবিলায় কাজ করছেন। ডায়মন্ড হারবারেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করছেন। খুব ভাল ভাবেই কাজ করছেন। তার মানে এই নয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেল বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেল। সামগ্রিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সরকার, দল কোভিড মোকাবিলায় কাজ করছে।’

সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারে কোভিড মোকাবিলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন অভিষেক। তিনি সেখানে নিজের ব্যক্তিগত মত হিসেবে বলেছিলেন, এখন দু’মাস ধর্ম, রাজনীতি, ভোট—সব বন্ধ হওয়া উচিত। আগে মানুষ বাঁচুক।

এ ব্যাপারে কার্যত গর্জে উঠে কল্যাণ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধাচারণ করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। ফলে জন স্বার্থবাহী কোনও ইস্যু নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোনও ব্যক্তিগত অভিমত থাকতে পারে না। তিনি কিছু বললে তা দলের বক্তব্য বলে ধরে নিতে হয়।’

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “যদি ধরেই নেওয়া হয় ডায়মন্ড হারবার মডেল সফল তাহলে বুঝতে হবে গোটা রাজ্য ব্যর্থ। কলকাতার মেয়র সামলাতে পারছেন না। ভাইপো পাশ, পিসি ফেল।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরও বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবারে একদিনে ৫৩ হাজার কোভিড পরীক্ষা হয়েছে। তাহলে গোটা রাজ্যে ৪২টি লোকসভায় ২১ লক্ষ টেস্ট হওয়ার কথা। তা হচ্ছে না কেন?’

অধীরবাবু বলেন, ‘যিনি মুখ্যমন্ত্রী তিনিই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আজকে প্রমাণ হয়ে গেল ডায়মন্ড হারবারের লোক যা পরিষেবা পান সারা বাংলার লোক তা পান না। যদি সব ঠিক হতো তাহলে কোথাও ৫৩ হাজার কোথাও ৫৩০০ টেস্ট হতো না।’

এদিন কুণাল ঘোষকে এও জিজ্ঞেস করা হয়, কোথাও তো কোনও সাংসদকে এ ভাবে প্রশাসনিক বৈঠক করে পৃথক নির্দেশ দিতে দেখা যায়নি। তা ছাড়া নবান্নও বলেছে, কোনও জেলা ইচ্ছেমতো কোভিড বিধি জারি করতে পারবে না। তাহলে ডায়মন্ড হারবারে আলাদা হল কী করে?

জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রত্যেকের একটা আলাদা স্টাইল থাকে। সেই অনুযায়ী অভিষেক তাঁর কেন্দ্রে কোভিড যুদ্ধ লড়ছেন। কিন্তু এটাকে পৃথক করে দেখা ঠিক হবে না।’

You might also like