Latest News

বুকে পরিবেশরক্ষার শপথ, রিকশা চালিয়েই সিয়াচেন সীমান্তে সত্যেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলকাতা থেকে সিয়াচেন সীমান্ত। সাইকেল-রিকশাই বাহন। পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা দিতে রিকশা অভিযান শেষ করে ফিরছেন সত্যেন দাস। লাদাখের খারদুং লা পাস পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। ফিরতি পথে বৃহস্পতিবার নৈহাটিতে এসে পৌঁছন। সেখানে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরিবেশরক্ষার বার্তাবাহকের উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে এদিন ফুল-মালা সহ নানা উপহার তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। একই লক্ষ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের অভিযান।

কলকাতার উপকণ্ঠে গোপালপুরের বাবলাতলার বাসিন্দা সত্যেন দাস। ২০১৭ সাল থেকে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা দিতে অভিযান করে চলেছেন তিনি। সেবার তিনি কলকাতা থেকে মানালি হয়ে লাদাখ গিয়েছিলেন। তখন ৫০০০ খেজুরের দানা রোপণ করতে করতে গিয়েছিলেন। সত্যেন দাস জানাচ্ছেন, এবার গত ১ আগস্ট বেরিয়েছিলেন রিকশা নিয়ে। কলকাতা থেকে প্রথমে তিনি যান বেনারস। সেখান থেকে লখনউ। তারপর সাহারানপুর হয়ে আম্বালা। আম্বালা থেকে জম্মু। সেখানে বৈষ্ণোদেবী দর্শন সেরে শ্রীনগর, সোনমার্গ, জোজি লা পাস। তারপর দ্রাস কার্গিল হয়ে লাদাখের লেহ শহরে পৌঁছন।

এরপর সত্যেন দাস লেহ থেকে যান সিয়াচেনের উদ্দেশে। সিয়াচেন বেস ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য সেখানকার নাগরিকরা জ্যাকেট, স্লিপিং ব্যাগ, জুতো ইত্যাদি দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেন। লাদাখের লেহ জেলার খারদুং লা পাস গিয়ে তিনি বেজায় সমস্যার সম্মুখীন হন। সেখানে ব্যাপক তুষারপাত হয়। তাঁর তাঁবুর ওপর আট-নয় ইঞ্চি তুষার জমে যায়। তিনি তখন টেন্টে ঘুমোচ্ছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

সত্যেন দাস জানিয়েছেন, আগামীতে তিনি এইধরনের অভিযানে বেরতে আগ্রহী। পরিবেশরক্ষার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। মানুষকে বিশ্ব উষ্ণায়নের কুফল বোঝাতে এবং গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর এই উদ্যোগ জারি থাকবে। যতদিন বাঁচবেন, ততদিন এই বার্তা প্রচার করতে চান তিনি। এদিন পুর এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্ব উষ্ণায়ন সম্পর্কে সতর্ক করে প্রচুর গাছ লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন রিকশা অভিযাত্রী সত্যেন দাস।

You might also like