Latest News

অযোগ্যদের চাকরির প্রস্তাব, গোটা মন্ত্রিসভার ইস্তফা চেয়ে বিধানসভায় ধুন্ধুমার বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিসের মাধ্যমে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে আদালতে পেশ করা আবেদন নিয়ে ইতিমধ্যে কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ওই সুপারিশের নেপথ্যে কার মস্তিষ্ক ছিল তা খুঁজে বের করতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ বার তা নিয়ে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নেমে পড়ল বিজেপি (BJP)। গোটা মন্ত্রিসভার ইস্তফা চেয়ে সোমবার বিধানসভায় আলোচনা চেয়েছিলেন তাঁরা। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে অনুমতি না দিলে সভা থেকে ওয়াকআউট করে বাইরে স্লোগান দিতে শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা।

এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর তিন সপ্তাহে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই স্থগিতাদেশ থাকলেও গোটা ব্যাপারটা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে রসদ জুগিয়েছে। সোমবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও মুখ্য সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব পাশ হয়েছে। তাই গোটা মন্ত্রিসভারই ইস্তফা চাই।

শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু গত সেপ্টেম্বর মাসে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, স্কুল সার্ভিসের মাধ্যমে যাঁরা ব্যতিক্রমী ভাবে চাকরি পেয়েছেন বা যাঁরা মেধা তালিকার ক্রম ভেঙে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের কারও চাকরি যাওয়ার পক্ষে নয় সরকার। কারণ, এতে তাঁদের পরিবারের উপর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সেই কারণে পাঁচ হাজারের সামান্য বেশি সুপার নিউমেরি শূন্য পদ তৈরি করা হয়েছে। তবে গোটা ব্যাপারটাই আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। আদালত যদি বলে এদের সবাইকে বরখাস্ত করতে হবে, তা হলে সরকার তা মেনে নেবে।

কিন্তু বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে অযোগ্যদের চাকরিতে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে আদালতে আবেদনই বা করা হবে কেন? বছরে ২৬০ কোটি টাকা কেন অযোগ্যদের জন্য খরচ হবে? এ কথা বলে কদিন আগে তাঁর পর্যবেক্ষণে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক খারিজের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি গোটা মন্ত্রিসভাকে মামলার পার্টি করার কথাও বলেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর বিষয়টি আদালতে অবশ্য এখন থমকে আছে। তবে বিজেপি এখন তা রাজনৈতিক হাতিয়ার করে নিতে চাইছে।
তৃণমূলের এক মুখপাত্র অবশ্য বলেছেন, সরকার সুপার নিউমেরি পদ তৈরি করে আদালতের বিবেচনার উপর সবটা ছেড়ে দিয়েছিল। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী যেমন চান না যোগ্যরা বঞ্চিত হোক, তেমনই চান না কারও পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ুক। এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা এখনও হয়নি। বিচারপতি কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন মাত্র। পর্যবেক্ষণ আর রায় এক নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিচারাধীন বিষয় ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি।

আরও পড়ুন: ‘জাত গোখরো’ মিঠুনের জন্য ‘কার্বলিক অ্যাসিড’-এর দাওয়াই সায়নীর

You might also like