Latest News

পালকি অ্যাম্বুলেন্স, বক্সার দুর্গম পাহাড়ি পথে রোগী বহনে অভিনব উদ্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সেখানে কোনও যানবাহন পৌঁছতে পারে না। বক্সা পাহাড়ের সেইসব পথে হেঁটে চলাফেরা করতে হয়। তাতেই অভ্যস্ত বক্সা পাহাড়ের আদমা, চুনাভাটি, সান্তালাবাড়ির মতো ১৩টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। তবে বিপত্তি হয় তখনই, যখন চিকিৎসার প্রয়োজনে কাউকে দুর্গম পাহাড়ি পথ উজিয়ে সমতলে আনতে হয়। সেপথ কমপক্ষে ১২-১৪ কিলোমিটারে কম হবে না। এতদিন দুটি বাঁশে প্লাস্টিকের চাদর অথবা কাপড় শক্ত করে বেঁধে তারমধ্যে শুইয়ে একপ্রকার ঝুলিয়ে নিয়ে আসা হত মুমূর্ষু রোগীকে। তারপর পাহাড়ের পাকদণ্ডি বেয়ে সমতলের দিকে দীর্ঘযাত্রা। নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করে তবেই মিলত অ্যাম্বুল্যান্স। তারপর হাসপাতাল। এই যাত্রার ধকলে দুর্গম পথের বাঁকেই হয়তো শেষ হয়ে যেতেন অনেকে। সেই ধকল খানিক কমাতে বক্সা পাহাড়ে চালু হল পালকি অ্যাম্বুলেন্স।

বুধবার থেকে বক্সা পাহাড়ে চালু হল এই পালকি অ্যাম্বুলেন্স। রীতিমতো বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি তুলনামূলক হাল্কা এই পালকির ভেতর রোগীকে রেখে কাঁধে বয়ে নামনো হবে সমতলে। পালকির ভেতর প্রশস্ত পরিসরে শুইয়ে নিয়ে আসা যাবে রোগীকে। রোদ-বৃষ্টি থেকেও রক্ষা মিলবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই অপেক্ষাকৃত সহজ বাহন চালু করেছে। এদিন বক্সা পাহাড়ের জিরো পয়েন্টে এই পালকি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন করেন জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। এতদিনে বক্সা পাহাড়ে রোগী বহনের ব্যবস্থায় বদল আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বক্সা পাহাড়ের আদমা, চুনাভাটি, সান্তালাবাড়ির মতো মোট ১৩টি গ্রামে।

জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা জানিয়েছেন, বক্সা পাহাড়ে আদমা, চুনাভাটি, সান্তালাবাড়ি প্রভৃতি মোট ১৩টি গ্রামে মূলত ডুকপা সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। এই গ্রামগুলির জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। বর্তমানে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যানবাহন যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু ওই ১৩ পাহাড়ি গ্রামে পৌঁছনোর এখনও একমাত্র মাধ্যম শুধুই পায়ে হাঁটা। কাছের হাসপাতাল বলতে সমতলের কালচিনির লতাবাড়ি হাসপাতাল। তার দূরত্বও ২৫ কিলোমিটারের কম নয়। যে স্থান পর্যন্ত বর্তমানে গাড়ি যেতে পারে সেই জিরো পয়েন্টও বক্সা পাহাড়ের গ্রামগুলি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার। ফলে বক্সা পাহাড়ের এই ১৩টি গ্রামের প্রসূতি থেকে মূমূর্ষ রোগী সবাইকেই পালকি অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে অন্তত জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নামানো যাবে।

সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তা তুষার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বাঁশের গায়ে কাপড় বেঁধে রোগী নামানো নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান প্রশ্ন উঠেছিল। গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে পালকি অ্যাম্বুলেন্স চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্য কোথাও এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে কিনা তা তাঁদের জানা নেই। তবে এরাজ্যে তা একদমই নতুন বলে দাবি সংস্থার কর্তা তুষার চক্রবর্তীর। দুর্গম পাহাড়ি পথে এই পালকি অ্যাম্বুলেন্স যে যাত্রার ধকল কিছুটা কমাবে তা সহজেই বুঝতে পারছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাই হাসিমুখেই নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।

You might also like