Latest News

ছাদনাতলায় স্কুলছুট ছাত্রীরা! ডাকতে গিয়ে বন্ধুরা জানল বিয়ে হয়ে গেছে পাণ্ডুয়ার কিশোরীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে কারও বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ আবার সংসার টানতে ভিন্ রাজ্যে কাজে চলে গেছে। আর্থিক অবস্থা খারাপ, বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ– এমনই নানা কারণে স্কুলছুট হয়েছে পড়ুয়ারা।

এবার কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরাতে গ্রামে গ্রামে ঘুরলেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। পাণ্ডুয়ার বিলসরা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ২০৯ জন। সেটা বর্তমানে পনেরো থেকে পঁচিশে নেমে এসেছে। নভেম্বরে স্কুল খোলার পর প্রায় এক মাস হতে চলল। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে অনুপস্থিতি একেবারে তথৈবচ। যা দেখে এবার কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রীদের হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাইক প্রচার করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে স্কুল। তামলেপাড়া, বড়গ্রাম, বিলসরা, সরেনডাঙা গ্রামে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা গিয়ে জানতে পারে তাদের সহপাঠীদের অনেকেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে।

তেমনই একজনের নাম নীপা (নাম পরিবর্তিত)। দশম শ্রেণির ছাত্রী নীপাকে আঠেরো পেরোনোর আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে। নাবালিকার বিয়ে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তার এখন পড়ার বয়স, কেন তার বিয়ে দেওয়া হল? ছাত্রীর মা বলেন, ‘সংসারে অভাব। তাই স্কুল বন্ধ থাকায় বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তবে তিনি মাস্টারমশাইদের জানিয়েছেন, এবার মেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন।

একই অবস্থা স্কুলের আরও দুই ছাত্রী মহুয়া ও রিমার (নাম পরিবর্তিত)। তারা জানিয়েছে, লকডাউনের পর থেকেই তাদের মতো অনেকেই এরকম স্কুলছুট। কেউ কেউ বিয়েও করে নিয়েছে।

স্কুলের আর এক পড়ুয়া সমিত ক্ষেত্রপাল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুল ছেড়ে সে এখন রাজকোটে জুয়েলারির কাজ শিখছে। তার মা কল্পনা ক্ষেত্রপাল বলেন, সংসারে আর্থিক অনটন। টাকা পয়সার দরকার ছিল। তাই রাজকোটে দাদার কাছে কাজ শিখতে চলে গেছে সমিত।

এইরকম আরও অনেক পড়ুয়াই স্কুলে অনুপস্থিত থাকছে। নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করাতে হয় পড়ুয়াদের। কিন্তু তারা অনুপস্থিত থাকায় সেটা করাই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। অন্য দিকে কন্যাশ্রী মেয়েরাও তাদের সহপাঠীদের সঙ্গ পাচ্ছে না। কন্যাশ্রী পারভিন সুলতানা বলেন, তারাও স্কুলে যাচ্ছে। কিন্তু বাকিরা আসছে না। সামনে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা রয়েছে, সেখানে কত জন পরীক্ষা দেবে তাও বোঝা যাচ্ছে না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৈনাক মুখোপাধ্যায় বলেন, স্কুল নতুন করে খোলার পর মোট পড়ুয়ার ১৫-২৫ শতাংশ হাজির হচ্ছে। তাই ঠিক করা হয়েছে, সরাসরি পড়ুয়াদের বাড়িতে গিয়ে এবার কড়া নাড়তে হবে। সেই কাজে শিক্ষকদের সঙ্গ দিচ্ছে কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েরাও। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান, বাঁকুড়ার মত একাধিক জেলায় পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরাতে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন শিক্ষকরা। এবার হুগলির পাণ্ডুয়াতেও দেখা গেল সেই একই দৃশ্য।

You might also like