Latest News

বুদ্ধদেব প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণকে তোপ বামেদের, ইতিহাস বড় নির্মম! 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ বলছেন ইতিহাসের (history) নির্মমতা(cruel)। কেউ বলছেন পাপ (crime)কখনও বাপকেও ছাড়ে না। এক যুগ আগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (kalyan banerjee) বিরুদ্ধে এভাবেই সমালোচনায় মুখর বাম মহল (left)।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। প্রথমবার শ্রীরামপুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন কল্যাণবাবু। সেইসময়ে প্রচারে বেরিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (buddhadev bhattacharya) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য (controversial comment) করেছিলেন তিনি। যার মূল কথা ছিল, নন্দনে মহিলা পরিবেষ্টিত হয়ে বসে মদ্যপান করেন বুদ্ধবাবু।

২০২২-এর জানুয়ারি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বালছে তাঁরই দলের লোকজন। গত সপ্তাহে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারে তৃণমূল কর্মীদেরই একাংশ কল্যাণের কুশপুতুল পুড়িয়েছিল। স্লোগান দিয়েছিল, ‘মাতাল তোমায় জানতে হবে, আগামীকে মানতে হবে।’ তারপর বুধবার আরও বিস্ফোরক ঘটনা ঘটল।

সুপ্রিম কোর্ট , হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদ্বয় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীরা। যাঁদের অনেকেই আবার তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের সদস্য। সেই চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট কয়েকজন মহিলার থেকে অনুগ্রহ নিয়ে তাঁদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন কল্যাণ। এই সবটাই তিনি করেছেন সাংসদ পদের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে।  যা শুনে বাম নেতৃত্ব যেমন আড়ালে মুচকি হাসছেন তেমন প্রকাশ্য সমালোচনাতেও অবতীর্ণ হয়েছেন অনেকে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, উনি কত বড় আইনজীবী আমার আগ্রহ নেই, উনি যে ভাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করেছেন, তাতেও আগ্রহ নেই। কিন্তু উনি যা বলেছিলেন সেই তিরেই ওঁকে এখন বিদ্ধ হতে হচ্ছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ি বলেন, “রাজনীতিতে এই নোংরা সংস্কৃতির আমদানি তৃণমূল করেছিল। সেই আগুনেই পুড়ছে তারা।”

সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ব্যক্তি কুৎসার রাজনীতি বামপন্থীরা করে না। কিন্তু ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস, সেদিন যিনি বুদ্ধবাবু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন আজকে তাঁকেই সেইসব শব্দে বিদ্ধ হতে হচ্ছে নিজের দলের কর্মীদের থেকেই।”

সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, “আমি সেদিনও বুদ্ধবাবু সম্পর্কে কল্যাণবাবুর কথাকে সমর্থন করিনি। আজকেও তাঁর বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তাকে সমর্থন করি না। কারণ যাঁরা এটা কল্যাণবাবুর বিরুদ্ধে বলছেন তাঁরাই তো এতদিন ওঁর সঙ্গে ছিলেন।”

সিপিএমের তরুণ নেতা তথা এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “তথাগত রায় বলছেন কামিনী-কাঞ্চন দিয়ে বিজেপি চলছে আর কল্যাণবাবুর বিরুদ্ধে তৃণমূল এসব স্লোগান দিচ্ছে। আমরা যাঁরা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী তারা মূল্যবোধের জন্য রাজনীতি করতে এসেছি। ঘটনা হল তৃণমূল আর বিজেপি সেই মূল্যবোধটাকেই পিষে দিতে চাইছে। এসব দেখে ভাল লাগে না।”

সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা কনীনীকা ঘোষ বোস বলেন, “সেদিন যাঁর সম্পর্কে কল্যাণবাবু ব্যক্তি কুৎসা করেছিলেন, তার কোনও প্রমাণ ছিল না। শুধু যেনতেনপ্রকারেন ক্ষমতা দখলের জন্য সেওসব করেছিলেন। আজকে সেই তাঁকেই তাঁর দলের লোকজন বলছেন তিনি অধঃপতিত। মানুষ নিজের অভিজ্ঞতাতেই সবটা মিলিয়ে দেখছেন।”

যদিও পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সেদিনের সেই বক্তৃতার জন্য তিনি অনুতপ্ত। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কাছে গিয়ে সেটা বলতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগ হয়নি। তবে সিপিএমের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাড়ার পথসভায় গলার শির ফুলিয়ে বলতে শুরু করেছেন—কেমন লাগছে কল্যাণবাবু?

 

You might also like