Latest News

রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব এইচকে দ্বিবেদী, বদল হল স্বরাষ্ট্র সচিবও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নর্থব্লক-নবান্ন সংঘাত শুরু হয়েছিল শুক্রবার রাত থেকে। সোমবার বিকেলে মহানাটকীয় ভাবেই ‘আপাতত’ শেষ হল সেই সংঘাত। তাতে যা দাঁড়ালো তা হল, কেন্দ্রের দ্বিতীয় চিঠি আসার পর মুখ্যসচিব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আলাপনবাবু। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন তিন বছরের জন্য। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হলেন হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী। এবং স্বরাষ্ট্র সচিব হলেন বিপি গোপালিকা।

হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদ্বী ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব পদে। তাঁকে মুখ্যসচিব করা হয়েছে। আর তাঁর জায়াগায় এলেন বিপি গোপালিকা। তিনি ছিলেন প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সচিব। সেইসঙ্গে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল রাজ্যের কর্মিবর্গ দফতরেও। বস্তুত এইচকে দ্বিবেদী এবং বিপি গোপালিকা দু’জনেই মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন বলে মত অনেকের।

সোমবার সকাল থেকে নাটকের শুরু। কিন্তু পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় যখন শুক্রবার রাতে চিঠি পাঠিয়ে সোমবার দিল্লি তলব করা হয় আলাপনবাবুকে। পরের দিন মমতা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ তোলেন। এদিন সকালে ঠিক ১০টার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঁচ পাতার কড়া চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর দেখা যায়, যথারীতি নবান্নে এসেছেন আলাপনবাবু। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে বল এখন কেন্দ্রের কোর্টে। দিল্লি কী করে দেখে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। আমার হাতে আর কিছু নেই।

এর খানিকক্ষণ পরেই জানা যায় দিল্লি থেকে ফের চিঠি এসেছে। তাতে বলা হয়, মঙ্গলবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নর্থব্লকে রিপোর্ট করতেই হবে। এর পরেই পদক্ষেপ করে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও বলেন, “আমি ইচ্ছা করলেই আলাপন কে জোর করে রেখে দিতে পারতাম মুখ্যসচিব হিসাবে আগামী তিনমাস কাজ করার জন্য। ওরা কিছুই করতে পারতো না। কিন্তু আলাপন যখন নিজে থেকেই অবসর নেওয়ার কথা জানায়, তখন আমি সেটা মেনে নিই।”

আলাপনবাবুকে সদ্যই তিন মাসের এক্সটেনশন দিয়েছিল কেন্দ্র। রাজ্য সরকার তাঁর চাকরির মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব তাতে সিলমোহর দেন। না হলে আজ ৩১ মে ছিল আলাপনবাবুর অবসরের দিন। সেদিনই অবসর হল। তবে ফেয়ারওয়েলটা হল ঐতিহাসিক সংঘাতের মধ্যে দিয়ে।

You might also like