Latest News

কোভিড-পলিসি তৈরি করতে বিশেষ উপদেষ্টা বোর্ড গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী, নেতৃত্ব দেবেন অভিজিৎ বিনায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের করোনাভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, এই বিশেষ মহামারী পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের তরফে গড়া হবে একটি কমিটি। কারণ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুব জরুরি। সেই কারণে গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড ফর কোভিড রেসপন্স পলিসি ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ গঠন করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেন তিনি।

মমতা জানান, যাঁদের জ্ঞান ও প্রতিভা সারা পৃথিবীতে সমাদৃত, সেরকম মানুষদের নিয়ে গঠন করা হচ্ছে এই বোর্ড। এই মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্য করবে মহামারী পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে।

মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত এই বোর্ডের প্রধান হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন রিজিওনাল ডিরেক্টর এবং আইসিএমআর-এর প্রাক্তন অধিকর্তা ডক্টর স্বরূপ সরকারও এই কমিটির সদস্য। পরবর্তী কালে আরও কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই বোর্ডে যুক্ত করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করবেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী এবং চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যাও দেন, কেন এই বোর্ড গঠন করা হল। তাঁর কথায়, “আগে ছিল নোটবন্দি এখন হয়েছে ঘরবন্দি। রেভিনিউ নেই, দোকান বন্ধ, ব্যবসা বন্ধ, কলকারখানা বন্ধ– কত দিন এভাবে সব বন্ধ থাকবে, কত দিন মানুষকে বন্দি থাকতে হবে জানি না। এর ফলে অর্থনীতি পুরো শুয়ে পড়েছে। একে কীভাবে বাঁচিয়ে তোলা যাবে, তার জন্যই এই বিশেষ কমিটি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিন দশেক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা হয়েছে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরে জাতীয় স্তরের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভারতের জনবিন্যাস, আর্থসামাজিক কাঠামো, মানুষের বসবাসের এলাকার ধরন ব্যাখা করেন নোবেল জয়ী এই অর্থনীতিবিদ ও তাঁর স্ত্রী এস্থার ডুফলো। তিনিও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।

ওই প্রতিবেদনে তাঁরা লিখেছিলেন, ভারত বিপুল জনসংখ্যার দেশ। সেখানে সংক্রমণ ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করতে পারে। এত গ্রামাঞ্চল, এত বস্তি, এত ঘিঞ্জি বসতি এলাকা রয়েছে যে, সেখানে মৃত্যুর বিস্ফোরণ ঘটতে বেশি সময় লাগবে না। একে রুখতে গেলে ব্যাপক সচেতনতা ও প্রচার ছাড়া আর বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। লকডাউন কেন বলবৎ হয়েছে, সেকথা আরও বেশি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ন’দফা পদক্ষেপের নিদান দেন তাঁরা।

১. প্রত্যেকটি পরিবারকে করোনার অভিঘাত নিয়ে সচেতন করতে হবে। এই কাজ করতে হবে ধারাবাহিক ভাবে। যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন কোভিড-১৯ কতটা ভয়াবহ।

২. প্রতিটি সংক্রমণের ঘটনা সঠিক ভাবে যাতে রিপোর্ট হয় তার জন্য চাই সার্বিক উদ্যোগ। অর্থাৎ কেউ যেন রোগের কথা গোপন না করেন। এটাই সংক্রমণ রোখার চাবিকাঠি।

৩. প্রশাসনের কাছে যাতে সঠিক রিপোর্ট পৌঁছয় তার জন্য একাধিক পন্থা নিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, অঙ্গনওয়াড়ি-আশা কর্মীদের এ ব্যাপারে যুক্ত করার কথা।

৪. গ্রামাঞ্চলে যে সব স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন বা চিকিৎসকরা কাজ করছেন, তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাতে উপসর্গ দেখলেই তাঁরা স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তখনই রিপোর্ট করতে পারেন।

৫. রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ করতে হবে সময়মতো। একটু দেরি হলেই যে সমূহ বিপদ তাও উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ-এস্থার। এই কাজ করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এও বলেছেন, সব কটি রাজ্যের মধ্যে এ ব্যাপারে যেন সমন্বয় থাকে।

৬. প্রতিটি রাজ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে মোবাইল টিম গড়া দরকার। করোনা পরীক্ষার কিট রাখতে হবে তাঁদের কাছে। কারও শরীরের সন্দেহজনক উপসর্গের খোঁজ পেলেই তাঁরা যাতে সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন।

৭. যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করছেন তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যাতে কোনও অভাব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

৮. অর্থনৈতিক ভাবে যাতে সাধারণ মানুষ একটা নিশ্চয়তা পায় তার গ্যারান্টি সরকারকে দিতে হবে। নাহলে লকডাউনের উদ্দেশ্য বিফলে যাবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এক লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী দম্পতি। এই আর্থিক প্যাকেজকে ‘স্মল পটেটো’ বলে উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ-এস্থার।

৯. যতদিন না ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন সরকারকে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি জারি রাখতে হবে। এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গড়ে তুলতে হবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো।

তাঁদের এই মতামত ও নির্দেশ মান্য করে রাজ্যের তরফে বিশেষ কোনও পদক্ষেপ করা হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

You might also like