Latest News

‘করোনার ছুটি’তে কেউ করেছে বিয়ে, কেউ হয়েছে মা! ঘরে-ঘরে খোঁজ নিতে গিয়ে হতবাক শিক্ষকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনকয়েক আগে ফেসবুকে ট্রোলের বন্যা বয়ে গেছিল একটি খবর ঘিরে। এ রাজ্যের কোনও এক জেলা থেকে এক কিশোর স্কুল খোলার পরে জানিয়েছিল, সে স্কুলে ফিরতে চায় না, কারণ বিয়ে করে ফেলেছে। ট্রোলের আড়ালে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এই দেড় বছরের লকডাউন বহু পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার অধিকারই কেড়ে নিল।

বস্তুত, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই লকডাউনের ফলে স্কুলপড়ুয়াদের যে দীর্ঘ সময় বিচ্ছেদ পড়েছে পড়াশোনায়, তার জেরে বহু মেয়েই বিয়ে করে ফেলেছে, কেউ বা সন্তানের জন্মও দিয়েছে। কিশোরী বয়সেই শেষ হয়ে গেছে পড়াশোনা। হুগলির জাঙ্গিপাড়া ব্লকের নিলারপুর রাজা রামমোহন বিদ্যাপীঠের এমনই ঘটনা সামনে এল।

স্কুল খোলার পর থেকেই অনুপস্থিত অনেকে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা খোঁজ নিতে শুরু করেন, তাদের স্কুলে ফেরানোর জন্য। কিন্তু বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাঁরা যা দেখলেন, তাতে রীতিমতো হতাশ পরিস্থিতি। যেমন মিরপুর গ্রামের ক্লাস সেভেনের রিয়ার (নাম পরিবর্তিত) বিয়ে হয়ে গেছে এই ‘ছুটি’তে। ১৪ বছরের রিয়া এখন এক মাসের ছেলের মা। পরিবার জানাল, ভালবাসার পাত্রকেই বিয়ে করে নিয়েছে মেয়ে। স্কুলে খবর দেওয়ার অবশ্য প্রয়োজন বোধ করেনি পরিবার।

শুধু মিরপুর নয়, কাশীপুরের বাসিন্দা, ক্লাস নাইনের মৌমিতারও (নাম পরিবর্তিত) বিয়ে হয়ে গেছে। ১৫ বছরের মেয়েটি এখন সাত মাসের গর্ভবতী। মৌমিতার দিদিমা শিক্ষকদের জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে ভাল পাত্র পাওয়া গেছে বলে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রী নিজে অবশ্য কিছু বলতে পারেনি শিক্ষকদের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম বালির আক্ষেপ, ক্লাস টেন ও টুয়েলভে তিনশোরও বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ৫৬ জনের বেশি একদিনও আসেনি স্কুলে। স্কুল খোলার পরে মাইকে প্রচার করা হয়েছে, তাতেও সাড়া মেলেনি। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

হরিহরপাড়ার ক্লাস নাইনের আবদুল (নাম পরিবর্তিত) আবার গ্যারাজে কাজ শিখছে। দশম শ্রেণির আর এক ছাত্র হায়দরাবাদে গয়নার কাজ করতে যাবে বলে প্রস্তুত। শিক্ষকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অবশ্য স্কুল যাবে বলে জানায় তারা। কিছু অভিভাবকও প্রতিশ্রুতি দেন, ছেলেদের স্কুলে পাঠাবেন, মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি থেকে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

You might also like