Latest News

ঝাড়গ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনে গ্রেফতার চার, এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে যাতে এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায় তাই নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হল আগুইবনি অঞ্চলের নেতুরা গ্রাম। লাগাতার চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল।
দূর্গা সরেনকে খুনের অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হলে দুজনকে পুলিশ হেফাজত ও দুজনকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

রবিবার সন্ধ্যায় নেতুরা বাজারে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি শুরু হয়। সেখানে তৃণমূলের এক কর্মীর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন তারক সাউ নামে বিজেপির এক কর্মী। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় রাতেই তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনায় তৃণমূল বিজেপি দু’পক্ষই ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়।

আহত বিজেপির কর্মী তারক সাউয়ের ভাই পঞ্চায়েত সদস্য মানিক সাউ মোট ১৪ জনের নামে ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তপন পৈড়া ও সন্টু গিরি নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, মৃত দুর্গা সরেনের ছোট ছেলে রূপচাঁদ সরেন ঝাড়গ্রাম থানায় মোট ১০ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণ রানা ও লক্ষণ গিরিকে গ্রেফতার করেছে।

উভয় পক্ষের চারজনকে এদিন ঝাড়গ্রামের সিজেএম আদালতের বিচারক এডুইন লেপচার এজলাসে তোলা হয়। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক সন্টু গিরিকে তিন দিনের এবং কল্যাণ রানাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকি দুজনের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি মামলার কেস ডায়রিও আদালতে তলব করেছেন বিচারক।

এদিন আদালত চত্বরে পুলিশ ভ্যানে বসে বিজেপি কর্মী কল্যাণ রানা বলেন, ‘‘পুলিশ আমার বাড়ির ছাদে উঠে দরজা ভেঙে আমাকে তুলে নিয়ে এসেছে। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেই। যে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে সেই তৃণমূল কর্মী অত্যাধিক মদ্যপানের করেছিল। ছোটাছুটি করার সময় পড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করে। অন্যদিকে ধৃত তৃণমূল কর্মী তপন পৌড়াও বলেন, ‘‘আমি ঘটনার সম্পর্কে কিছুই জানি না। পরিকল্পনা করে এই সব চক্রান্ত করছে বিজেপির লোকজন।’’

এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে এলাকায় যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায় তারজন্য সতর্ক আছে প্রশাসন।

You might also like