Latest News

‘আমার মধ্যে লড়াইটা এখনও বেঁচে আছে’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) পদে শপথ নেওয়ার পর তখনও দু’বছরও হয়নি। কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারে তৃণমূল কংগ্রেস সেই সময়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল। মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায় জোড়াফুলের ৭ জন মন্ত্রী। কিন্তু রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তেই প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শরিক নেত্রী প্রতিবাদে পথে নামায় দৃশ্যত বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন মনমোহন। অস্বস্তি ঢাকতে কংগ্রেস নেতারা তখন বলতেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁর মধ্যে আন্দোলনের সত্তা রয়ে গিয়েছে।

সেই ঘটনার পর ১০ বছর কেটে গিয়েছে।

সিঙ্গুর-অনশনেরও ১৬ বছর অতিক্রান্ত। রবিবার সেই দিনটাকেই স্মরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) টুইট করেছেন, ‘আমার মধ্যে সেই লড়াই এখনও বেঁচে আছে’। তাঁর কথায়, “আজ থেকে ১৬ বছর আগে, আমি সিঙ্গুর এবং দেশের বাকি কৃষকদের জন্য আমার অনশন শুরু করেছিলাম। ক্ষমতাবানদের লোভে যারা অসহায় হয়ে পড়েছিল তাদের জন্য লড়াই করা নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কখনওই সাধারণের অধিকারকে বিপন্ন হতে দেব না”।

সম্প্রতি সিঙ্গুর বিতর্ক নিজেই উস্কে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। উত্তরবঙ্গে এক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বামেরাই তাড়িয়েছিল’। মমতা সে কথা বলার পর রে রে করে উঠেছিল সিপিএম। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, বিজেপি-কংগ্রেসও। অথচ বাস্তব হল, সিঙ্গুর বিতর্কের পর সিপিএম পলিটব্যুরোও স্বীকার করে নিয়েছিল যে জোর করে জমিগ্রহণের পন্থা ভুল ছিল। আবার মমতা যখন সিঙ্গুর প্রশ্নে অনশনরত তখন তাঁর আন্দোলনে একাত্মতা জানাতে কলকাতায় এসেছিলেন তৎকালীন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং।

মমতার সিঙ্গুর অনশনের প্রসঙ্গে জয়রাম রমেশের মতো প্রবীণ কংগ্রেস নেতারা বলেন, “ওই আন্দোলন বাংলার শিল্প সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলেছে বা ফেলেনি তা ভিন্ন বিতর্ক। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, সিঙ্গুর কৃষকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এক মাইলফলক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই আন্দোলনের কারণেই শতাব্দী প্রাচীন তথা ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন করা হয়েছিল। শুধু তা নয়, জমি অধিগ্রহণ করলে চাষীদের কী হারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেওয়া হবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। এবং এটুকু সুনিশ্চিত করা যায় যে সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও চাষিদের স্বার্থ যেন অটুট থাকে”।

গায়ের জোরে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মনমোহন সরকারের খসড়া সংশোধন বিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বিবেচনা করেছিল। সেই সময় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ও পরে পলিটব্যুরো বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যে গায়ের জোরে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না।

আরও পড়ুন: ১১ লাখ বাড়ি দেবে সরকার, মমতার নির্দেশে পুলিশ চেক করবে তালিকায় অনিয়ম হচ্ছে কিনা
কেবল তাই নয়, একুশের ভোটে বামেদের ভরাডুবির পরও সেই পুরনো কাসুন্দি তুলে এনেছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ভোটে ভরাডুবির কারণ নিয়ে রাজ্য কমিটির পর্যালোচনা খারিজ করে কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, দলের রাজনীতি আত্মস্থ করতে ব্যর্থ বাংলা ইউনিট। জমি নীতির প্রশ্নে যে ত্রুটি হয়েছিল তার সংশোধন না করে উল্টে আরও ভুল করেছেন বাংলার নেতারা।

কেন্দ্রীয় কমিটির মতে, বামফ্রন্ট সরকারের শেষ কয়েক বছরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রশাসন শিল্পায়নের নেশায় বুঁদ হয়ে জমির প্রশ্নে যে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছিল তা কখনওই কমিউনিস্ট চরিত্রের সঙ্গে যায় না। কিন্তু দলের দলিলে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও তা নিয়ে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি বঙ্গ সিপিএমের। এই বেপরোয়া মনোভাবকে বিপর্যয়ের বড় কারণ বলে উল্লেখ করেছিল একে গোপালন ভবন।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, প্রান্তিক ও গরিব মানুষের জন্য লড়াইয়ে বাংলায় যে পরিসর ছিল সিপিএমের তার বারো আনাই দখল করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপুল সংখ্যক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার কারণে বাংলার গ্রামে এখন পোক্ত ভিত তৃণমূলের।

You might also like