Latest News

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অভ্যেস, মার্কিন মুলুকে অফিস যেতে বলায় চাকরিই ছেড়ে দিচ্ছেন কর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতিমহামারী অনেক কিছু দেখিয়েছে। বদলে দিয়েছে আমাদের রোজকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নিয়ে এসেছে নিউ নর্মাল। মাস্ক এখন নিত্যসঙ্গী। কথায় কথায় পকেট থেকে বেরিয়ে আসে স্যানিটাইজারও। এই নিউ নর্মালে যা যা অভ্যেস তৈরি হচ্ছে তা ঝেড়ে ফেলা কিন্তু খুব একটা সহজ হচ্ছে না।

করোনাকালে বাড়ি থেকেই কাজ করতে হয়েছে অনেককে। এখনও হচ্ছে। এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অভ্যেস গাঁটে গাঁটে বসে যাচ্ছে চাকুরিজীবীদের।

শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করার এই ব্যবস্থাকে এতটাই ভালবেসে ফেলছেন মানুষ, যে একটা সময় পরে যখন সবকিছু আবার স্বাভাবিকের পথে এগোচ্ছে, তখন আর অফিসমুখো হতে চাইছেন না কেউ। সকলেই চাইছেন ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যবস্থাই বহাল থাকুক।

এই মানসিকতা দেখা যাচ্ছে পশ্চিমের দেশগুলিতে, যেখানে করোনার প্রকোপ কমে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পর অফিস যেতে বলায় চাকরিই ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। ১ হাজার জনের মধ্যে অফিসে যেতে বললে চাকরি ছাড়তে রাজি আছেন ৩৯ শতাংশ মানুষ। তাঁদের যুক্তি একটাই, বাড়ি থেকে কাজ করলে তো কাজের কোনও ক্ষতি হচ্ছে না, তবে কেন নয়?

এক্ষেত্রে অফিস কর্তাদের বক্তব্য, অফিসে গিয়ে কাজ করলে যে কোম্পানি কালচার গড়ে ওঠে, তা ব্যাহত হয় ওয়ার্ক ফ্রম হোমে। সকলে মিলে এক জায়গায় বসে কাজ করার যে সুবিধা, তাতে যে ঐক্য গড়ে ওঠে কর্মচারীদের মধ্যে, তা বাড়ি থেকে করলে আর থাকবে না। করোনা আবহে বিকল্প রাস্তা খুঁজতে হয়েছিল ঠিকই কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের আগের মতো অফিস থেকে কাজ করার ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনতে চান কর্তৃপক্ষ।

বাড়ি থেকে কাজ করার আরও এক সুবিধার কথাও মাথায় রাখছেন কর্মচারীরা। অফিসে যাতায়াতের খরচ এতে একেবারেই থাকছে না। ফলে ভাণ্ডারে টাকা জমছে প্রচুর।

মার্কিন মুলুকে যখন এই ছবি, তখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ব্যস্ত ভারত। কেন্দ্র সরকারের তরফে লকডাউন ঘোষণা করা না হলেও কোভিড ঠেকাতে একাধিক রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আগামী দিনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে এদেশে করোনা পরবর্তী সময়ের কী ছবি দেখা যায় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটুকু পরিষ্কার, অনেক কাজই যে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে বসে করা যায়, তা শিখিয়ে দিয়েছে অতিমারী।

You might also like