Latest News

সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনেই জি বাংলায় ফিরল ‘এক আকাশের নিচে’, আম্মার স্নেহ মনে পড়ছে সকলের

সঙ্গে অগ্নিপরীক্ষা, গোয়েন্দা গিন্নি, ভুতুও।

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

“কিছু মেঘ, কিছু রোদ্দুর, পালাবে কোথায় বলো কতদূর, ফিরে আসতেই হবে তোমায়, ফেলে আসা সেই পুরনো সময়… এক আকাশের নিচে।”

একসময় রাত আটটা বাজলেই প্রায় সব বাড়ি থেকে বেজে উঠত এই টাইটেল সং। শুরু হত ‘এক আকাশের নিচে’ সিরিয়াল। বাড়ির সবাই একসঙ্গে বসে দেখত যে সিরিয়াল, আজও যা সকলের মন ভাল করে দেওয়া অনুভূতি মনে পড়ায়।

সেই ‘এক আকাশের নিচে’ ফের ফিরে এল আজ। এবার বেলা ১২টায়।

Image may contain: 3 people

‘এক আকাশের নিচে’র টাইটেল সং গেয়েছিলেন ভূপিন্দর সিং আর হোমিকা আচার্য্য। সুরকার চন্দন, যিনি সিরিয়ালেও একজন সুরকারের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছিলেন। যার সুরে চৈতী গান গাইতেন। সেই নস্ট্যালজিয়া যুগ ফিরে এল আবার। লকডাউনের কঠিন সময়ে এখনকার যুবক-যুবতীদের ছোটবেলা ফিরিয়ে দিল জি বাংলা। আর কী সমাপতন, আজই নায়িকা-অভিনেত্রী সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন! ওই সিরিয়ালে যাঁর অভিনীত আম্মা চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে সেই সময়।


আম্মা বাড়ির সবথেকে বয়োজ্যেষ্ঠ যাঁর তিন ছেলে আর তিন মেয়ে। আম্মা কিন্তু শুধু ছেলেমেয়েরাই ডাকে না, ডাকে আম্মার নাতি-নাতনিরাও। তিনি সকলের আম্মা।

সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় এতই দক্ষ অভিনেত্রী, মনে হত না যে অভিনয় করছেন। তিনি যেন সত্যিই আমাদের সবার ঠাম্মা। যাঁর গায়ের গন্ধ সেন্টের গন্ধকেও হার মানায়। যাঁর অপত্যস্নেহ ভরিয়ে রাখে। এটা একটা সেরা কাজ সুমিত্রার জীবনে। এই সেরা কাজের চরিত্রটি ওঁকে দেন পরিচালক রবি ওঝা। ঘটনাচক্রে, এটাই সুমিত্রার শেষ সিরিয়াল, শেষ কাজ। এই মেগা করতে করতেই সুমিত্রা মারা যান।


সুমিত্রা কিন্তু বাস্তবজীবনে খুব সুখী ছিলেন না। যে রাতে তিনি মারা গেছিলেন, শোনা যায়, সে রাত্রে ছেলে-বউয়ের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে অনেকটা ড্রিংক করে ফেলেন আর মৃত্যু হয় তাঁর। তাই আজ সুমিত্রার জন্মদিনে এই সিরিয়াল সম্প্রচার শ্রদ্ধার্ঘ্যও বটে। সুমিত্রার আম্মার রোল পরে করেন অভিনেত্রী সোমা দে। সোমাও জি বাংলা পুরস্কার পান।

রবি ওঝা নতুন স্বাদের ফ্রেশ পারিবারিক গল্পকে ধরেছিলেন মেগায়। সিরিয়ালের বড় খোকা পার্থসারথি দেব, মেজো খোকা অতুল ওরফে রজতাভ দত্ত। তখন সবে ‘পারমিতার একদিন’ করেছেন রজতাভ। ছোট খোকা ডাক্তার আকাশের ভূমিকায় শাশ্বত চ্যাটার্জি। বড় মেয়ে কৃষ্ণকলি, রাজ। ভূমিকায় ঋতা দত্তচক্রবর্তী। সে স্বনির্ভর, তবু তাকে বিয়ে হয়নি বলে খোঁটা শুনতে হয়। মেজো মেয়ে ছটফটে সুন্দরী মিনু, অপরাজিতা আঢ্য, যার বিয়ের সম্বন্ধ লেগে যায় বড়দি রাজের হবু বরের সঙ্গেই। আর ছোট বোন কমলিকা ব্যানার্জি নবাগতা।


বড় বৌমা চৈতী ঘোষাল, মেজো সুদীপা বসু। সেই চরিত্রেই পরে অভিনয় করেন ইন্দ্রাণী বসু। ছোট নন্দিনী, যে চরিত্র নিয়ে বারবার নায়িকা বদল হয় আর খবর হয়। প্রথমে নন্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেন রুমনী চ্যাটার্জি। তখন বাস্তবে রুমনী ছিলেন পরিচালক দেবাংশু সেনগুপ্তর স্ত্রী। রুমনী হঠাৎ আত্মহত্যা করেন। দেবাংশু জেলে যান। ব্যস, নন্দিনী কে করবে তখন? এই সিরিয়ালেই দেখতে পাবেন স্নান করে চুল ঝাড়ার দৃশ্যে রুমনীকে। পরে নেওয়া হয় অদিতি চ্যাটার্জিকে। অদিতি-শাশ্বত জুটিও সুপারহিট হয়ে যায়। কয়েক বছর পর অদিতিও বিয়ে করে বিদেশ পাড়ি দেন। তাঁর জায়গায় আসেন দেবলীনা দত্ত। দেবলীনার কেরিয়ারেও এই সিরিয়াল আইকনিক আজও।

বড় নাতনি কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজও সিরিয়ালের ‘পাখি’ নামেই অনেকে একডাকে চেনেন। সমতা দাস পাখির বোন। বাড়ির সকলের কানাইদা কল্যাণ চ্যাটার্জি আর তরুদি রুমকী চ্যাটার্জি, বাস্তবে অভিনেতা আবির চ্যাটার্জির মা। শাশ্বতর সহকর্মী ডাক্তার প্রেমিকার রোলে মন কাড়েন জাতীয় স্তরের অভিনেত্রী সুনীতা সেনগুপ্ত। ভাস্বর চ্যাটার্জি, স্বস্তিকা মুখার্জি এই সিরিয়ালে জুটি হিসেবে কাজ করেন।

‘এক আকাশের নিচে’ নামটা যেন একটা যৌথ পরিবারের সুখ-দুঃখ-আনন্দ সব নিয়ে আসত রাত আটটায়। এই সিরিয়াল যখন হত তখন জি বাংলা ছিল আলফা বাংলা। সেই চ্যানেলেই টিভি টিউন করতেন সকলে, আজ থেকে দু’দশক আগে। লকডাউনের সময়ে সেই আমেজ ফিরে পাবেন সকলে।

শুধু এই সিরিয়াল নয় সঙ্গে আসছে আরও একঝাঁক পুরনো সিরিয়াল। অগ্নিপরীক্ষা– ২০০৯ সালে দেখানো হত এই মেগা। মূল ভূমিকায় সোনালি চৌধুরী। তিন বোনের গল্প। এটিও যৌথ পরিবারের কাহিনী। সোনালি চৌধুরী, ভাস্বর চ্যাটার্জি, স্বরলিপি চ্যাটার্জি, সৌম্য ব্যানার্জি, সোমা দে, মানসী সিনহা, ফাল্গুনী চ্যাটার্জি, পাপিয়া সেন, বৈশাখী মার্জিত অভিনীত এই মেগা সিরিয়ালও দশ বছর আগে খুব জনপ্রিয় হয়। ভাস্বর-সোনালি জুটির টার্নিং পয়েন্ট এই সিরিয়ালটি।

Image may contain: 3 people


জি বাংলা আরও আনছে, ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত ‘গোয়েন্দা গিন্নি’। বাড়ির বউ যখন গোয়েন্দা। ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরীটির পাশাপাশি গোয়েন্দা গিন্নির নাম উচ্চারণ হত। এত জনপ্রিয়তা পায় নতুন ফর্মের ধারাবাহিকটি। প্রতি মাসে একটা করে কেস সলভ করত গোয়েন্দা গিন্নি। ইন্দ্রাণী হালদারের টিভিতে কামব্যাক মেগা ছিল এটি, যাতে ইন্দ্রাণী সবার মন জয় করেন। দেখতে পাবেন সেই সিরিয়ালও।

আসছে ‘ভূত নই ভুতু’। ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটি যখন ভূত। সে তো আদর করার মতো ভূত। একটা বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় ভুতুর আত্মা। সেই বাচ্চা ভুতুর কোনও বন্ধু নেই, নেই কোনও পরিবার। সবাই মৃত। সেই বাড়িতে ভাড়া আসে একটি যৌথ পরিবার। তাঁদেরই ঠাম্মা, জেঠু, জেম্মা, কাকাই, দাদা, বোন বানিয়ে তোলে ভূত ভুতু। ভুতুর ভূমিকায় আর্শিয়া। খুব জনপ্রিয় হয় সিরিয়ালটি, যেটি পরে কার্টুনও হয়।

এছাড়াও আবার আসছে ‘আমার দুর্গা’, ‘দীপ জ্বেলে যাই’-এর মতো মেগাগুলি । রিয়্যালিটি শো হিসেবে মীরাক্কেলের প্রথম দিকের জনপ্রিয় পর্বগুলি দেখানো হবে। সারেগামাপা-র বিশেষ বিশেষ পুরনো পর্ব দেখানো হবে রোজ রাতে।

Image may contain: 1 person

তবে সবথেকে বেশি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে ‘এক আকাশের নিচে’ নিয়েই। যে সময়টাকে সিরিয়ালের স্বর্ণযুগ ধরা হত, যখন রবি ওঝা, যীশু দাশগুপ্ত, দেবাংশু সেনগুপ্তরা কাজ করতেন মেগা-ইন্ডাস্ট্রিতে, সেই সময়টা ফিরে দেখা যাবে এই সিরিয়ালের মধ্যে দিয়ে। আর একটা জিনিসও যাচাই করা যাবে। কুড়ি বছর আগে সিরিয়ালের মান কী ছিল আর এখন কী হয়েছে।

অনেকেরই অভিযোগ, এখনকার ধারাবাহিক আগের মতো নেই। বিশেষ করে সেই সময়ের বিখ্যাত সব লেখকের লেখা অবলম্বনে যেসব ধারাবাহিক তৈরি হয়েছিল সেগুলোও যথেষ্ট উঁচু মানের ছিল। আজকাল অতি মেকআপ এবং জটিলতার ভারে ঝুঁকে গেছে বহু সিরিয়াল। একান্নবর্তী পরিবার মানেই পরকীয়া এবং জটিলতা নয়। সুস্থ রুচি যে বাংলা সিরিয়াল হারিয়েছে সেটা হয়তো মনে করিয়ে দেবে এই কুড়ি বছর আগের সুন্দর সিরিয়ালগুলোই।

লকডাউনে এভাবেই মন ভাল করুন একগুচ্ছ পুরনো সিরিয়াল দিয়ে।

You might also like