Latest News

কলকাতা থেকে পুরুলিয়া, কয়লা তদন্তে চার দল নিয়ে ফের তেড়েফুঁড়ে নামল ইডি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত রবিবারই কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, বিনয় মিশ্রদের কত সম্পত্তি এখনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বা মোট কত সম্পত্তি রয়েছে। মঙ্গলবার দেখা গেল সেই মামলাতেই লেকটাউন থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত তল্লাশি অভিযানে নেমেছেন তদন্তকারীরা।

বিধাননগর, লেকটাউন থেকে পুরুলিয়া—৪টি দলে ভাগ হয়ে মোট ৩০জন ইডি আধিকারিক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। পুরুলিয়ায় অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং সল্টলেকে গণেশ বাগারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা।

গত কয়েকমাস ধরেই কলকাতা ও তার উপকণ্ঠে বিনয় মিশ্রদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ করছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি জানিয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৭১.৮৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।

ইডি-র বক্তব্য, কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রদের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩৫২ কোটি টাকা। ধাপে ধাপে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

কয়লা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বিনয়ের ভাই বিকাশকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তিনি অবশ্য এখন অসুস্থতার কারণে প্যারোলে রয়েছে। তাঁদের আত্মীয় তথা পুলিশ আধিকারিক অশোক মিশ্রও হেফাজতে। পুরুলিয়ার ব্যবসায়ী অনুপ মাঝি সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।

এদের মধ্যে বিনয় মিশ্র ফেরার। যুব তৃণমূলের প্রাক্তন অন্যতম সাধারণ সম্পাদকের নামে রেড কর্ণার নোটিস জারি করেছে সিবিআই। খোঁজ নেই গণেশ বাগাড়িয়ারও। প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন গণেশ দুবাইয়ে রয়েছেন। সম্প্রতি জানা গিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি দ্বীপ রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিয়েছেন বিনয়।

বাঁকুড়া থানার দায়িত্বে ছিলেন অশোক মিশ্র। তিনি বিনয় মিশ্রর আত্মীয়। সিবিআই আদালতে জানিয়েছিল, এই অশোক মিশ্র ১০৯ দিনে ১৬৮ কোটি টাকা তুলেছিলেন। তদন্তকারীরা বরাবরই আদালতে বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী, পুলিশ, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজস না থাকলে এত বড় পাচার চক্র চালানো সম্ভব নয়।
এই ধরনের তদন্তে এক দিনে একাধিক জায়গায় একসঙ্গে হানা দেওয়া কেন্দ্রীয় এজেন্সির কোনও নতুন ঘটনা নয়। অতীতেও রোজভ্যালি কিংবা সারদা তদন্তে এমন দেখা গিয়েছে।

কয়লা পাচার কাণ্ডে বড় হাত রয়েছে বলেই মনে করে সিবিআই এবং ইডি। এর আগে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলাকে বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। অভিষেকের শ্যালিকা মেনেকা গম্ভীর, তাঁর স্বামী, শ্বশুরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। সেসব ভোটের আগে। সেই সময়ে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল, ভোটের আগে জনমানসে ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে পার্টির গণসংগঠন হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ভোটের পরে সেই তদন্ত থেমে রইল না।

You might also like