Latest News

সেতু-রাস্তা নেই, দু’দুটো নদী আজও হেঁটে পেরিয়ে যেতে হয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: সত্যিই হাসছে জঙ্গলমহল। তবে এই হাসিটা উন্নয়নের হাসি নয়, উন্নয়নের বিজ্ঞাপন দেখে হাসছে জঙ্গলমহলের বহু গ্রামই। রাজ্য সরকারের দাবি, শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে, পাকা রাস্তা হয়েছে, নদীর উপর হয়েছে বাঁধানো সেতু, লোকে পাচ্ছেন সরকারি ভাতা। কিন্তু ছবিটা কি রাজ্যের সর্বত্র একই রকম? বিশেষ করে পুরুলিয়ার আড়ষা থানার বীরচালি, বামুনডিহা, গৌরাদাগ, বীরডির?

হাসছেন এইসব গ্রামের মানুষজন, হাসছেন বিজ্ঞাপন দেখে। উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও তাঁরা দেখেননি কস্মিনকালে। ধরুন বীরচালির কথাই। বীরচালি থেকে সেনাবনা হাটের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার কোনও রাস্তাই নেই। জঙ্গল, পাথুরে মাঠ ও দু’-দুটো নদী আজও হেঁটেই পার হতে হয় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রসূতি –সকলকেই।

এই এলাকারই বাসিন্দা মিহির মাহাতো বলেন, “আমাদের গ্রামে কোনও গাড়িই ঢুকতে পারে না। খুব কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়।” আরেক গ্রামবাসী পশুপতি মাহাতো বলেন, “পাকা রাস্তা বহু দূরে, তাই আমাদের যেতে হয় নদী পার হয়েই। বর্ষাকালে নদীতে জল থাকলে তখন ভীষণ অসুবিধা হয়।”

গ্রামে ঢুকতে পারে না কোনও চার চাকার গাড়ি। আপত্কালীন অবস্থায় তাই অসুস্থ ও প্রসূতিদের দোলা করে নদী পার করিয়ে জঙ্গল, পাথুরে মাঠ পেরিয়ে তিন কিলোমিটার নিয়ে যেতে হয়। তবেই গাড়ির রাস্তা পাওয়া যায়। সেখান থেকে গাড়িতে করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুলপড়ুয়াদেরও হাঁটা ছাড়া অন্য উপায় নেই।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গ্রামপঞ্চায়েত, বিডিও অফিস, জেলা পরিষদ থেকে জেলাশাসক দফতর – সর্বত্র বারবার লিখিত আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি।

রাস্তার সংজ্ঞা এটাই, কোথাও আবার তা বেশ সংকীর্ণ।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাতো বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, তবে বীরচালি থেকে সেনাবনা হাটের মোড় অবধি রাস্তাটি শীঘ্রই পরিদর্শনে যাব। রাস্তাটি এতদিন কেন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।”

জেলা পরিষদ থেকে জানানো হয়েছে, যে তিন কিলোমিটার রাস্তার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কৃষিজমির অবস্থা কী, রাস্তা তৈরির ব্যাপারে কোথাও জমি সংক্রান্ত কোনও বিরোধ আছে কিনা, সেসব খতিয়ে দেখা হবে। তারপরে দেখা হবে কেন ওখানে রাস্তা করা সম্ভব হয়নি। সব কিছু যদি ঠিক থাকে তা হলে ওখানে রাস্তা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

তবে এলাকার লোকজন বলছেন, তাঁদের কষ্টের কথা যদি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখনও পর্যন্ত জেনে না থাকেন, সেটাও তাঁদের দুর্ভাগ্যই।

You might also like