Latest News

তৃণমূল সাংসদ হিসেবেই বলছি, অশোক দেব ঠিক করছেন না: দিব্যেন্দু অধিকারী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাই শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা। বাবা শিশির অধিকারীর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূল দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সন্ধিক্ষণে তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী সোমবার নিজেকে তৃণমূল সাংসদ পরিচয় দিয়ে বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অশোক দেব যা করছেন ঠিক করছেন না।

এদিন দিব্যেন্দু অধিকারী বলেছেন, “বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট হোক, হাইকোর্ট হোক বা নিম্ন আদালত- কোনও ক্ষেত্রেই এটা ঠিক নয়। অশোক দেবকে আমি সম্মান করি। কিন্তু তিনি যে ভাবে চিঠি লিখেছেন তা ঠিক হয়নি।”

কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলকে সরিয়ে নেওয়া হোক। এই দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এমভি রামানাকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অশোক দেব।

অশোক দেব তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক। স্বভাবতই অশোক দেবের চিঠির বক্তব্য ঘিরে জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি যেহেতু রাজ্য সরকারেকে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে চেপে ধরেছেন তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় বিধায়ককে দিয়ে বার কাউন্সিলকে ব্যবহার করে বিন্দালের অপসারণ দাবি করিয়েছেন। চিঠিতে অশোকের মোদ্দা কথা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিরপেক্ষ নন। তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হোক।

যদিও বার কাউন্সিলের আরও চার সদস্য দেশের প্রধান বিচারপতিকে পাল্টা চিঠি লিখে বলেছেন, কাউকে না জানিয়ে অশোক দেব বার কাউন্সিলের লেটার হেড, স্ট্যাম্প ব্যবহার করে এই চিঠি লিখেছেন। এই চিঠি অশোক দেবের ব্যক্তিগত। বার কাউন্সিলকে যেন এর সঙ্গে জড়ানো না হয়।

নন্দীগ্রামের ভোট গণনা সংক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে করা নিয়েই একপ্রস্থ অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। শুনানিতে মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সরাসরি বলেছেন, আপনি বিজেপি ঘনিষ্ঠ। আপনি এই মামলা থেকে সরে যান। তারপর অশোক দেবের এই চিঠি রাজনৈতিক ভাবেও তাত্‍পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও দিব্যেন্দুর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে অশোক দেবকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি।

দিব্যেন্দু এখনও সরাসরি বিজেপির মঞ্চে যাননি। আবার তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয়েছে তাঁর। এমনই দূরত্ব যে বর্তমান জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র রাজ্য তৃণমূলকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে তমলুকের সাংসদ হঠাত্‍ কেন অশোক দেবের বিরুদ্ধে সরব হতে গেলেন তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, নন্দীগ্রামের ভোট গণনা মামলা প্রসঙ্গে অশোক দেব এই চিঠি দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতিকে। সেই মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তাহলে কি এই নিয়ে সরব হয়ে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন দিব্যেন্দু?

You might also like