Latest News

টিকিট কাউন্টারে ফণা তুলে গোখরো, শ্রাবণ সন্ধ্যায় জল্পেশ মন্দিরে সাপ দেখে ছোটাছুটি ভক্তদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ময়নাগুড়ি: তুমি যে এখানে কে তা জানত!

সত্যি জানতেন না কেউই। ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি। শ্রাবণের সন্ধ্যায় ময়নাগুড়ির জল্পেশ শিব মন্দিরে গোখরো দেখে আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হলো ভক্তদের। সাপ ধরতে নাকানি চোবানি খেলেন মন্দির কর্তৃপক্ষও। শেষমেশ সাপ বাবাজিকে ঝোলায় পুরে নিরাপদ জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শ্রাবণ মাস জুড়ে জল্পেশে শ্রাবণী মেলা চলে৷ লাখ লাখ পূণ্যার্থীর ভিড় হয় জল্পেশ শিব মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের কথায়, সবজে-সাদা অনাদি শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে ফি সপ্তাহে গড়ে দেড় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় মন্দিরে। সপ্তাহান্তে ভিড়টা আরও বাড়ে। নিরাপত্তা বাড়াতে মন্দিরে লাগানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা । ভিড় সামাল দিতে পুলিশ ছাড়াও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকেও কাজে লাগানো হয়।

শনিবার রাতভর ছিল প্রচুর ভক্তের ভিড়। টিকিট কাউন্টারে বসে হয়তো চোখ খানিক বুজে এসেছিল জনা কয়েক কর্মীর। হঠাৎই ফোঁস ফোঁস শব্দে চমকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন তাঁরা, ‘সাপ! সাপ!’

সাপ বেরিয়েছে শুনে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। বাবার মাথায় জল ঢালা বাতিল করে অনেকেই মন্দির ছেড়ে পিঠটান দেন। কর্তৃপক্ষের কথায়, টিকিট কাউন্টারের ভিতরের ঘরে ঢুকে দেখা যায় দিব্যি কিলবিল করছে একটা বিরাট গোখরো। মানুষ দেখেই ফণা তুলে দাঁড়ায় সেটি। ভয় পেয়ে মন্দিরের লোকজন খবর দেন ময়নাগুড়ির একটি সংগঠনে। সেই সংগঠনের এক আধিকারিক নন্দু রায় এসে সাপটিকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেছেন, “রাত তখন দেড়টা। আমার কাছে খবর আসে মন্দিরে সাপ বেরিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও সেটিকে ধরা যায়নি। আমি গোখরো সাপটি ততক্ষণে একটি টিকিটের বাক্সের মধ্যে গুটিসুটি মেরে রয়েছে। সেটিকে উদ্ধার করে মন্দির থেকে অনেক দূরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  ”

শনিবার রাতে জল্পেশে গোখরো-কাণ্ডের পরে রবিবার বিকেলের দিকে ময়নাগুড়ির চাতরার পার এলাকায় এক গৃহস্থের বাড়ির রান্নাঘর থেকে প্রায় ১১ ফুট লম্বা একটি পাইথন উদ্ধার হয়েছে। সেটিকে তুলে দেওয়া হয়েছে বন দফতরের হাতে।

You might also like