Latest News

ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক লিখলেন ‘মু মে রাম নাম, বগলমে তিনকা’, তোলপাড় গেরুয়া শিবির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা বিজেপিতে যেন কী লেগেছে!

কখনও হোয়াটস্যাপ গ্রুপ ছাড়ার ঢল মতুয়া বিধায়কদের তো কখনও সেই স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন বাঁকুড়ার বিধায়করা। এই গ্রুপ ছাড়াছাড়ি নিয়ে যখন দিলীপ ঘোষদের রোজ জবাবদিহি করতে হচ্ছে তখন সোমবার ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট করে বসলেন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বিধায়ক কৌশিক রায়। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরে।

কৌশিক তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লিখেছেন, ‘মু মে রাম নাম, বগলমে তিনকা। সমাধান না হয়, সেই পর্যন্ত, সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে বাধ্য হলাম। জয় শ্রীরাম!’

কীসের সমাধানের কথা বলছেন বিধায়ক? সমস্যাটা কোথায়?

সোমবার সন্ধে থেকে ফোনই ধরছিলেন না বিধায়ক। রাতের দিকে অবশ্য বলেন, “এই মুহূর্তে করোনার বাড়বাড়ন্ত তাই এই সিদ্ধান্ত।” কিন্তু ‘মু মে রাম নাম বগলমে তিনকা’ মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

ময়নাগুড়ির প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য অনুপ পাল অবশ্য একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিধায়কের এ হেন পোস্ট নিয়ে তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর দিকে। অনুপবাবুর কথায়, “বিধায়ককে দলীয় কর্মসূচির কোনও খবর দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি ময়নাগুড়িতে পৌরসভা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে টাউন মণ্ডল বা গ্রামীণ মণ্ডল তৈরী করা হবে। সেই কমিটি গঠনেও তাঁর মতামত নেওয়া হয়নি।”

জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, “কেনও বিধায়ক এই ধরনের পোস্ট করলেন তা আমার জানা নেই। দল যদি আজকে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করত তাহলে কি উনি এই কাজ করতে পারতেন? দলে সাধারণ কর্মীরাই সম্পদ। তাঁদের গুরুত্ব দেওয়াই আসল কথা।”

তার মানে কি ময়নাগুড়ির বিধায়ক ক্ষমতার দিকে গা ঘেঁষছেন?

তার অবশ্য স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তবে যে ভাবে বিধানসভা ভোটের পর থেকে বিজেপি বিধায়করা তৃণমূলে ভিড়ছেন তাতে তেমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এই ক’মাসেই বিজেপি ৭৭ থেকে নেমে ৭০-এ চলে এসেছে। অনেকে বলেন, ভোটের আগে যে ভাবে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়েছিল সেভাবে বিজেপি ছাড়ার হুজুগ লেগেছে। আর এই কৌশিক রায় প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই সংবাদ শিরোনামে। তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে কম বিতর্ক হয়নি। তারপর সম্প্রতি চটুল গানে তাঁর প্রকাশ্য মঞ্চে নাচ গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল। এবার নতুন সংযোজন ফেসবুক পোস্ট।

You might also like