Latest News

প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে, সবথেকে বেশি অর্ডার জোড়াফুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুর-নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত। তাঁদের ছবি ও প্রতীক-সংবলিত পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন শহরজুড়ে। প্রার্থীদের প্রচারের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ততার ধুম পড়েছে গিরিশপার্ক সংলগ্ন রমেশ দত্ত স্ট্রিটে। ডোমপাড়া পর্যন্ত লাইন দিয়ে বসে চলছে প্রচার সামগ্রী তৈরির কাজ।

মণ্ডপ তৈরির কাজ সারাবছর থাকে না। তাই কোনও ভোট এলেই ওঁদের পোয়াবারো। তৈরি হয় বাড়তি রোজগারের সুযোগ। বাঁশের ঝান্ডার কাঠি, ফ্লেক্স লাগানোর ছোট-বড় কাঠামো আর দলীয় প্রতীক তৈরি করে বাড়তি রোজগার হয়। ভোটের আর বেশিদিন নেই। তাই রাতজেগে কাজ চলছে, জানাচ্ছেন কর্মীরা।

 

সবথেকে বেশি অর্ডার দিয়েছে কোন দল? ‘ঘাসফুল’ প্রায় প্রত্যেকেরই মুখেই এই উত্তর। তারপরেই আছে কংগ্রেস। বিজেপি আর সিপিএম-এর অর্ডার এখনও তেমন আসেনি। গৌতম মণ্ডল নামে এক বিক্রেতা বললেন, ‘সারাবছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার কাজ করি। ভোটের সময় একটু বাড়তি রোজগার হয়। এবছর বাঁশের দাম অনেক বেশি। ২০০-৪০০ টাকা। তাই লাভ কম হচ্ছে।’ জানালেন, একটা বাঁশ থেকে তিনফুট ও চারফুটের দু-তিন বান্ডিল ঝান্ডার স্টিক তৈরি হয়। দাম দুশো-তিনশো টাকা। বাঁশ কিনে আনতে হয় মানিকতলা, উল্টোডাঙ্গা থেকে।

কংগ্রেসের প্রতীক হাতের পাশেই সারি সারি তৃণমূলের প্রতীক। কোনওটায় লেখা পুজা পাঁজাকে এই চিহ্নে ভোট দিন, কোনওটায় মীনা হাজরাকে। মাঝবয়সী সাইনবোর্ড শিল্পী তপন সমাদ্দার বললেন, ‘সিপিএমের অর্ডার এবছর একটাও পাইনি। বেশিরভাগই জোড়াফুল। আর কংগ্রেস।’ জানালেন, প্লাইউড, রঙের খরচ বাদ দিয়ে প্রতীক পিছু লাভ পাঁচ থেকে সাতটাকা।

সেখানেই দেখাগেল বিজেপির কাউন্সিলররা থার্মোকলের পদ্মফুল তৈরির বরাত দিয়েছেন। গোল স্তম্ভের ওপর আঠা দিয়ে বসানো হচ্ছে পদ্ম। যার নিচেই লেখা থাকবে প্রার্থী ও ওয়ার্ডের নাম। আর এক বিক্রেতা সহদেব ধারা বললেন, ‘তৃণমূলের প্রার্থীদের নাম লেখা প্রতীকের অর্ডারই বেশি। তবে এই প্রতীক বানাতে সময়ও বেশি লাগে। অনেকগুলো রং। কংগ্রেসেরও তাই। তবে তুলনামূলক সহজ। একটা প্রতীক তৈরির খরচ প্রায় ১৮০ টাকা। লাভ থাকে ২০ টাকার মতো।’

 

সেখানকারই এক কর্মী ছোটন বললেন, ‘সবথেকে কঠিন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীক তৈরি করা। বাঘ আঁকতেই কালঘাম ছুটে যায় আমাদের। সহজ হল হাত চিহ্ন।’ তিনি জানালেন, সব পুজো শেষ। এসময় তাঁদের সাধারণত কাজ থাকেনা। কিন্তু পুরভোটের জন্য ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা জমজমাট হয়েছে। তাই তাঁরা সবাই দিন-রাত কাজ করে প্রার্থীদের প্রচার সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।

You might also like