Latest News

কলকাতায় সোয়াইন ফ্লুতে মৃত্যু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমার জানা নেই!’

দ্য ওয়াল ব্যুরো :  সোয়াইন ফ্লু-তে শহরে মৃত্যু হলো এক জনের। মৃতের নাম অসিত বসু, বয়স ৬৩। দমদমের বাসিন্দা অসিতবাবু গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতাল আমরিতে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

অসিতবাবুর ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এইচ ওয়ান এন ওয়ান পজিটিভ লেখা হয়েছে। তার থেকে সেপসিস ও মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর হয়েছে বলেও লেখা হয়েছে সার্টিফিকেটে। অসিতবাবু গত ১৩ তারিখ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর জ্বর ছিল। সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে তাঁর নিউমোনিয়া ও ডিসেমিনেটেড ইনট্রাভাস্কুলার কোয়াগুলেশন-এর লক্ষণ ছিল। মানে রক্ত জমাট বেঁধে সারা শরীরে ছোট ছোট অসংখ্য ক্লট তৈরি হয়েছিল। এর থেকে রক্ত সঞ্চালনে বাধা পড়ে ও পরে সেপসিস হতে পারে। সাধারণত ট্যামিফ্লু জাতীয় অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ সোয়াইন ফ্লু-তে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তাতে কাজ না-ও হতে পারে।

কলকাতায় সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, মৃত ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ এই শহরে বসেই হয়ে থাকলে সেটা চিন্তার বইকি। যদিও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সোয়াইন ফ্লুতে মৃত্যুর ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ডঃ দীপঙ্কর মাজি জানান, তাঁদের কাছে এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য নেই। সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এই সব তথ্য এসে পৌঁছতে ঘণ্টাচারেক লাগে। তিনি জানান, তাঁরা এখনও রিপোর্টটি পাননি।

প্রসঙ্গত, সোয়াইন ফ্লু এক ধরনের ইনফুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে হয়, যা সাধারণত শুয়োরদের শরীরে প্রথমে সংক্রমণ ঘটায়। তবে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সাধারণত অন্য কারও শরীর থেকেই আসে। আগে ভাইরাসটি শুয়োর থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াতো। পরে ভাইরাসটির স্ট্রেন বদলানোর ফলে এখন মানুষ থেকে মানুষেই প্রধানত ছড়ায় এই ফ্লু। কিছু সংক্রমণ এতটাই জোরালো হয় যে ফুসফুসের গভীরে চলে যায় এবং নিউমোনিয়া থেকে রোগীর মৃত্যু হয়।

যাঁরা শুয়োরের মাংস খান, তাঁরা যদি ভালো করে রান্না করে খান, তা হলে ভয়ের কিছু নেই। তবে এই ফ্লু বায়ুবাহিত ও সাংঘাতিক ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে যে ড্রপলেট বের হয়, তা অন্য কারও শরীরে প্রবেশ করলে তাঁরও সোয়াইন ফ্লু হওয়া অবশ্যাম্ভাবী। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যেতে হলে অবশ্যই মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরা উচিত।

দেশ বিদেশের খবর নিয়ে আপডেট থাকতে দ্য ওয়ালের পেজে সাবস্ক্রাইব করুন, অথবা দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজ লাইক করুন। 

You might also like