Latest News

‘বেঞ্চ প্রেসে’ নয়া নজির দুর্গাপুরের বিধায়কের! জানেন তো এটা কী খেলা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। জাতীয় বেঞ্চ প্রেস প্রতিযোগিতায় রুপো জিতে দুর্গাপুরের সীমা দত্ত চট্টোপাধ্যায় এই চিরকালীন প্রবাদ বাক্যটিকে ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন।

আর পাঁচজন মহিলার মতো দুর্গাপুরের সীমার‌ও ঘর-সংসার আছে। তিনি সারাদিন ধরে কখনও স্ত্রী, কখনও মায়ের ভূমিকা পালন করেন। নিজে একজন ফিজিক্যাল ট্রেনার। এই সংক্রান্ত ব্যবসাও আছে তাঁর। প্রতিদিন তাঁর কাছে বেশ কিছু মহিলা প্রশিক্ষণ নেন। সেই সবকিছু সামলেই নিজের ভাল লাগা ‘বেঞ্চ প্রেস’কে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই বধূ।

না, বধূ বললে আপনার-আমার চোখে গড়পড়তা যে ছবি ভেসে ওঠে তার সঙ্গে সীমার খুব বেশি মিল নেই। তাবলে তিনি ঘরকন্যার কোন‌ও কাজ করেন না এটা যদি ভাবেন, তবে কিন্তু মস্তবড় ভুল হবে।

সীমা যেমন প্রতিদিন অনেক মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেন, তেমনই ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক অংশু সিংয়ের কাছেও রোজ বেঞ্চ প্রেসের প্রশিক্ষণ নেন। এই কঠোর পরিশ্রমের ফল‌ই পেলেন হাতেনাতে।

চলতি মাসের ১৭,১৮ ও ১৯ নভেম্বর গোয়ার মনোহর পারিক্কর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয় ৩০ তম জাতীয় বেঞ্চ প্রেস প্রতিযোগিতা। সেখানে বাংলার বেশকিছু মহিলা অংশ নিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন দুর্গাপুরের সীমা। প্রথম দিনই ৬৩ কেজি বিভাগে ৬৭.৫ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় হন। ১৮ তারিখ ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে সারা দেশের মধ্যে চতুর্থ হন। শেষদিন সীমার হাত ধরে ফের সাফল্যের মুখ দেখে বাংলা। ক্লাসিক বেঞ্চ প্রেস প্রতিযোগিতায় ফের রুপো জেতেন দুর্গাপুরের এই বধূ।

জাতীয় স্তরের এই সাফল্যেই থেমে যেতে চান না সীমা। তিনি আসলে একা নন, বরং তাঁকে দেখে বাকিরাও একইরকমভাবে এগিয়ে আসুক এটাই চান তিনি। সবচেয়ে বড় কথা ঘর-সংসার সামলেও তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা চাট্টিখানি কথা নয়! আগামী দিনে আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চান তিনি।

আসলে সীমারা থেমে থাকতে জানেন না। নিজের জন্যে, বাকিদের জন্য নতুন নতুন নজির তৈরি করতে করতেই পথ চলেন তাঁরা!

You might also like