Latest News

বাইরে তখন চিৎকার করে স্লোগান, সদ্যোজাতকে নিয়ে এলেন নার্স! সবাই মিলে নাম দিল ‘আন্দোলন’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক উত্তাল সময়ে জন্মেছে সে। আন্দোলনের গর্ভগৃহে শোনা গিয়েছে তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার কান্না। তাই তার নামই রাখা হল আন্দোলন।

মঙ্গলবার, সারা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা যখন বিদ্রোহে, বিক্ষোভে তুমুল বিপন্নতার মুখে, তখনই তার জন্মের সুতীক্ষ্ণ কান্নায় হাসি ফুটেছিল অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে। দিকে দিকে কর্মবিরতি ঘোষণা করছেন চিকিৎসকেরা, পাল্টা গুন্ডামির শিকার হচ্ছেন রাজ্যের নানা প্রান্তে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একটার পর একটা হাসপাতালের গেট– তখনই প্রসব বেদনা ওঠে সন্তানসম্ভবা রূপালি ভুঁইয়ার। সমস্ত আন্দোলন, ক্ষোভ, রাগ, অভিযোগ ফেলে রেখে, সেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিক জটিলতার পরে, সুস্থ ভাবে জন্ম নেয় সে শিশু। নাম তার আন্দোলন। সত্যিই তো, এমন ভাঙনের সময়ে যে সৃষ্টির নব প্রাণ সঞ্চারিত হল চিকিৎসকদের হাতে, তার নাম এ ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে!

মেদিনীপুরের কেশপুরের আমড়াকুচি গ্রামের ছেলে আন্দোলনের এই জন্ম যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিল, হাজার ভাঙনের মাঝেও যখন তাতে প্রাণের স্পর্শ থাকে, তখনই আশা জাগে, ভরসা বাড়ে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সদ্যোজাত আন্দোলনের বাবা রাজু ভুইয়া বলছেন, “আগের দিন এনআরএস হাসপাতালে এক ডাক্তারবাবুর মার খাওয়ার ঘটনা শুনেছিলাম। পরের দিন থেকেই ঝামেলা। জেনেছিলাম, কলকাতার ওই ঘটনাতেই এখানেও স্ট্রাইক করছেন ডাক্তারবাবুরা। রূপালির তখন শেষ অবস্থা। ডাক্তারের দেওয়া তারিখ পেরিয়ে গেছে। যে কোনও সময়ে ব্যথা উঠবে। অনেকেই ভয় দেখিয়েছিল আমায়, কী হবে! আমি জানতাম, ভাল কিছুই হবে। এত দিন রূপালিকে যত্ন করে দেখলেন ডাক্তারবাবুরা, শেষ বেলায় কি ফেলে দেবেন নাকি!”

আন্দোলনের বাবা, রাজু ভুইয়া।

ফেলে দেওয়া দূরের কথা। রূপালির মামা অসিত দলই জানালেন, ওই বিক্ষোভের মধ্যে তাঁদের নাতির জন্মে যেন সকলেই খুব খুশি হয়েছিলেন। ডাক্তারদের দেখে একটা বারের জন্যও মনে হয়নি, তাঁরা এতটুকু আলগা দিয়েছেন কর্তব্যে। “আমাদের থেকে তো ওরাই বেশি খুশি! বাইরে তখন চিৎকার চলছে, স্লোগান উঠছে। এর মধ্যেই একরত্তি ছেলেটাকে বাইরে এনে দেখালেন নার্সরা। সবাই একসঙ্গেই ওর নাম রাখে তখনই, এ ছেলের নাম আন্দোলন।”

সোমবার রাতে এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তারদের উপরে চড়াও হয় রোগীর এলাকার লোকজন। এনআরএস হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে বেধড়ক মারধর করে চিকিৎসকদের। মাথার খুলি তুবড়ে যায় পরিবহ মুখোপাধ্যায় নামের এক জুনিয়র ডাক্তারের। তার পরেই রাগে, ক্ষোভে ফেটে পড়ে এনআরএস। আঁচ ছড়ায় সারা রাজ্যে। নানা প্রান্তে কর্মবিরতি শুরু করেন চিকিৎসকেরা।

অভিযোগ ওঠে পরিষেবা না-পেয়ে রোগীদের ফিরে যাওয়ার। যদিও সব জায়গাতেই জরুরি পরিষেবা খোলা রাখার কথা জানানো হয়, কিন্তু অনেক জায়গাতেই তা সম্ভব হয় না। ফলে পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হয়। এই আন্দোলনের মধ্যেই, রূপালি ভুইয়ার কোলে জন্ম নেয় আর এক ছোট্ট আন্দোলন।

আরও পড়ুন: দেশ জুড়ে চিকিৎসা-ধর্মঘট আজ, চোখ বুলিয়ে নিন এক ডজন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে

জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে ব্যাহত হওয়া চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে যখন রাজ্যের নানা প্রান্তে ক্ষোভ উগরেছেন রোগীর পরিবার, প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ, তখন এই সদ্যোজাত আন্দোলনের পরিবার অবশ্য রয়েছে চিকিৎসকদেরই পাশে। কর্মবিরতির মাঝেও তাঁরা যে পরিষেবায় যথেষ্ট খুশি, তা একেবারেই স্পষ্ট তাঁদের চোখে মুখে। তবে পাশাপাশি এ-ও তাঁরা বলছেন, “আন্দোলন তো অনেক হল, এবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক সকলে।”

You might also like