Latest News

তৃণমূলে দুই নিয়ম? কলকাতায় সব ছাড়, জেলায় যত কড়াকড়ি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা যেই না ঘোষণা হল, ওমনি বড় কৌতূহল তৈরি হল দলের নিয়ম নিয়ে। প্রশ্ন উঠল, তা হলে কি কলকাতা আর জেলায় পৃথক নিয়ম? কলকাতায় সব ছাড় আর যত কড়াকড়ি জেলায়!

এমনটা কেন মনে হচ্ছে?

এই যেমন কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন, তারক সিং, তাঁর ছেলে ও তাঁর মেয়ে। মানে এক বাড়িতেই তিন টিকিট। কিন্তু শুক্রবার তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “এক পরিবার থেকে দু’জনকে টিকিট দেওয়া যাবে না। কারণ, নতুনদের সুযোগ দিতে হবে”। পার্থবাবুর কথায় যুক্তি আছে। এক বাড়ি থেকে দু’জন বা তিন জন টিকিট পেলে দলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। নতুনদের মধ্যে সুযোগের অভাবে অসহিষ্ণুতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু কলকাতা ছাড় পেল কেন!

তা ছাড়া এ বার দেখা গিয়েছে, মন্ত্রীর ছেলে মেয়েরা ঢালাও টিকিট পেয়েছে। তাঁরা তৃণমূলের রাজনীতিতে এর আগে কত ঘণ্টা দিয়েছেন তা সম্ভবত হিসাব করা হয়নি বলেই অনেকের মত। এমনকি মালা রায় সাংসদ হয়েও টিকিট পেয়েছেন। আবার ববি হাকিম, দেবাশিস কুমার, রত্না চট্টোপাধ্যায়, দেবব্রত মজুমদাররা কেউ মন্ত্রী, কেউ বা বিধায়ক হলেও পুরসভায় টিকিট পেয়েছেন। কিন্তু এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনও বিধায়ককে পুরসভা ভোটে টিকিট দেওয়া হয়নি।

এমনিতে বিরোধীরা তো বটেই তৃণমূলের ভিতরের অনেকে ঘরোয়া আলোচনায় অসন্তোষের সঙ্গে বলেন, দলে দুয়োরানি-সুয়োরানি সিস্টেম রয়েছে। কলকাতা, বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতা হল সুয়োরানি। আর জেলা হল দুয়োরানি। কলকাতার মন্ত্রীদের কদর জেলার মন্ত্রীদের থেকে কম।

হুগলির এক বিধায়ক তথা বিদায়ী চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, “এতদিন শুনতাম শিবঠাকুরের আপন দেশে-আইনকানুন সর্বনেশে। এ তো দেখছি তৃণমূলের আপন দেশেই দু’রকমের নিয়ম। কলকাতার নেতাদের জন্য এক বিধি আর গঙ্গা পেরোলেই সব বদলে যায়! এতে দলেরই নিচুতলায় নেতিবাচক বার্তা যাবে।”

You might also like