Latest News

আমিনুল, আনিসের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ মমতার, চর্চায় ফিরছে রিজওয়ানুরকে নিয়ে বুদ্ধদেবের ভুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনিস খানের (Anis Khan) অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে প্রথমে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন, তারপর তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড এবং বুধবার দুই পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার। তিন দিনে তিন সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি সিট নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আনিসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে।

আমিনুলের ক্ষেত্রেও তিনি একই রাস্তায় হেঁটেছিলেন। কড়েয়া থানার অভিযুক্ত অফিসারদের সরিয়ে দিয়েছিলেন। লালবাজার তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়।

নয় বছর আগের সেই ঘটনাটিও ছিল মর্মান্তিক। থানার সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ওই তরুণ। হাসপাতালে মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন এলাকার একদল দুষ্কৃতী মেয়েদের দিনরাত উত্যক্ত করে। ধর্ষণ করে। বারে বারে থানায় জানানো সত্বেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।

২০০৭ সালে রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর পর তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের সরিয়ে দিতে টালবাহানা করার অভিযোগ ওঠে। এক মাসেরও বেশি সময় নিয়েছিলেন সরাতে৷ ততদিনে হাইকোর্ট রিজওয়ানুরের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দেয়। ফলে অফিসারদের না সরিয়ে উপায় ছিল না।

বিহারে মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে খুন, অভিযোগ গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে

কী হয়েছিল রিজয়ানুরের ক্ষেত্রে? ২০০৭-এর ২১ সেপ্টেম্বর দমদম স্টেশনের অদূরে রেললাইনের উপরে পাওয়া গিয়েছিল রিজওয়ানুরের দেহ৷ তাঁর মৃত্যুরহস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই জানা গিয়েছিল, কলকাতা পুলিশের কয়েক জন পদস্থকর্তা ওই যুবকের উপর মানসিক অত্যাচার চালিয়েছিলেন৷ প্রতিবাদে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য উত্তাল হলেও, বুদ্ধদেববাবু পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গোড়ায় কোনও গুরুত্বই দেননি। এ নিয়ে পরবর্তীতে দলেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর ১৬ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট ওই ঘটনায় রিজওয়ানুরের মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের আদেশ দেয়৷ সেই দিনই বিকালে বুদ্ধবাবুও অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন৷ তার আগে অবশ্য অভিযুক্ত অফিসারদের বহাল রেখেই প্রথমে সিআইডি তদন্ত এবং পরে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ সিআইডি জানিয়েছিল, রিজওয়ানুর আত্মহত্যা করেছে।

কিন্তু সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তী তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০১০-এর ১৭ মে কলকাতা হাইকোর্ট রিজওয়ানুরের ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেয় সিবিআইকে৷ শুধু তাই নয়, হাইকোর্ট তার আগে হওয়া সরকারি তদন্তেও তীব্র অনাস্থা ব্যক্ত করেছিল৷

আমিনুল কড়েয়া থানার সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ২০১৩- র ৩ ডিসেম্বর৷ তাঁর প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে কড়েয়া থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই যুবক৷ কিন্তু পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে অভিযুক্তকে আড়াল করে এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় বলে অভিযোগ ছিল নিহতের পরিবারের৷ হাসপাতালে মৃত্যুকালীন বয়ানে আমিনুল পুলিশের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ নথিভুক্ত করে যান।

তবে আমিনুলের ক্ষেত্রেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেননি লালবাজারের তৎকালীন কর্তারা।   রাজ্য মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট তলব করার পর সক্রিয় হয় তারা।

রাজ্য মানবাধিকার কমিশন হস্তক্ষেপ করেছিল রিজওয়ানার রহমানের ঘটনাতেও। তার পরেও অফিসারদের স্বপদে বহাল রেখেছিল বামফ্রন্ট সরকার।

রিজওয়ানুরের বাড়ির অদূরেই থাকতেন আমিনুল৷ রিজওয়ানুরের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে ভয় দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল৷ নির্দিষ্ট করে অভিযোগ ছিল কলকাতা পুলিশের দুই পদস্থ গোয়েন্দাকর্তা জ্ঞানবন্ত সিং এবং অজয় কুমারের বিরুদ্ধে৷ এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগের দুই অধস্তন অফিসার সুকান্তি চক্রবর্তী এবং কৃষ্ণেন্দু দাসের বিরুদ্ধেও হোসিয়ারি ব্যবসায়ী অশোক টোডির হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছিল৷ টোডির একমাত্র কন্যাকে আইনি পথেই বিয়ে করেছিলেন রিজওয়ানুর৷ আনিসের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোাধ্যায় যে সিট গঠন করেছেন, ঘটনাচক্রে সেটির প্রধান হলেন রিজওয়ানার কাণ্ডে অভিযুক্ত জ্ঞানবন্ত।

রিজওয়ানুরকে নিয়ে রহস্য মৃত্যুর অভিযোগের পাশাপাশি বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরেও জটিলতা তৈরি হয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তত্‍কালীন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, রিজওয়ানুর আত্মহত্যা করেছেন৷ যদিও তদন্ত করছিল সিআইডি এবং রেল পুলিশ।

রিজওয়ানুরের ঘটনায় তখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ঘটনার মাস দেড়েক পর ওই যুবকের বাড়িতেও যান তিনি। মমতা বন্দ্যপাধ্যায় নিহত আনিসের বাবাকে নবান্নে ডেকেছিলেন। তিনি আসেননি। এখন দেখার তিনি আনিসের বাড়িতে যান কিনা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like