Latest News

অমলকে তৃণমূলে ঢুকতে দেবেন না, অভিষেককে গণস্বাক্ষরিত চিঠি

রফিকুল জামাদার

বিজেপিতে যাওয়া নেতারা যদি তৃণমূলে ফিরতে চান তাহলে তাঁদের নেওয়ার ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড দেখা হবে তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি বলেছিলেন, দেখতে হবে কারা চরমপন্থী আর কারা নরমপন্থী।

মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্তদের দলে ফিরিয়ে তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে, তাঁরা চরমপন্থী ছিলেন না। অনেকে বলেন, এই নেতাদের দলে নেওয়া সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত হলেও তলার স্তরে অসন্তোষ রয়েছে। এবার আর এক নেতার দলে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন শুরু হতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে নো এন্ট্রি বোর্ড ঝোলানোর দাবি জানালেন উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল নেতারা।

কে তিনি?

তিনি উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা ইটাহারের প্রাক্তন বিধায়ক অমল আচার্য। উত্তর দিনাজপুরের জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়াল, সমস্ত বিধায়করা মিলে সই করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে চিঠি লিখেছেন। জেলা তৃণমূলের প্যাডে লেখা সেই চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, শোনা যাচ্ছে বিজেপিতে যাওয়া অমল আচার্য আবার তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তাঁকে যেন দলে না নেওয়া হয়।

কেন?

ওই নেতারা অভিষেককে চিঠিতে জানিয়েছেন, অমল যতদিন দলে ছিলেন ততদিন গোষ্ঠী কোন্দলে বিদীর্ণ ছিল জেলা তৃণমূল। তিনি এখন নেই। দলে এখন ঐক্যের বাতাবরণ রয়েছে। সমস্ত বিধায়ক, নেতা মিলে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁরা ওই চিঠিতে এও লিখেছেন, আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এই অমল আচার্য। তাঁকে দলে নিলে দলেরই ভাবমূর্তি খারাপ হবে।

এ ব্যাপারে জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের সঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই বলেন, “এই চিঠি কোথায় পেলেন? এটা তো দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।” তাঁকে বলা হয়, সাংবাদিকরা কখনও সূত্র বলতে পারেন না। আপনি বলুন, এই চিঠি সত্য না মিথ্যা? আমতা আমতা করে কানহাইয়া বলেন, হ্যাঁ চিঠি দিয়েছি। তবে এটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

যে ইটাহারের একসময়ে বিধায়ক ছিলেন অমল আচার্য সেখানে এবার জিতেছেন তৃণমূলের মোশারফ হোসেন। তিনি অবশ্য এত জটিলতার মধ্যে যাননি। সরাসরি ফোনে বলেন, হ্যাঁ চিঠি লেখা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে শুনছি অমল আচার্য কলকাতায় গিয়ে বড় নেতাদের পা ধরাধরি শুরু করেছেন। তাই আমরা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই চিঠি লিখেছি।

মোশারফ এও বলেন, অমল আচার্য দলে আসা মানে আবার বিভাজনের রাজনীতি শুরু হওয়া। তাই তা যাতে না হয় সে জন্যই সবাই মিলে এই চিঠি লিখেছি।

এবার ভোটে টিকিট না পেয়ে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছিলেন অমল। কিন্তু পদ্ম শিবিরও তাঁকে টিকিট দেয়নি। উত্তর দিনাজপুরে মোট বিধানসভা আসন ন’টি। এবার সাতটি জিতেছিল তৃণমূল, দুটি বিজেপি। ভোটের পর হাওয়া বুঝে দুই বিজেপি বিধায়কও তৃণমূলে যোগ দিয়ে দিয়েছেন। ফলে তৃণমূল এখন নয়ে নয়। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের কাছে জেলার নেতারা চিঠি লিখে দাবি জানালেন, অমলকে যেন না নেওয়া হয়। যদিও এ ব্যাপারে অমল আচার্যর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

You might also like