Latest News

নারদ কাণ্ডে ধৃত দুই মন্ত্রী-সহ ৫ জনকেই জামিনে মুক্তি দিল আদালত, নৈতিক জয় বলল তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরে যখন নিজাম প্যালেসের বাইরে তৃণমূল সমর্থকরা তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন টুইট করে দলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লকডাউনের নিয়ম মেনে চলুন। আমাদের বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রয়েছে।

আপাত দর্শনে সেই আস্থারই জয় হল। এদিন দুপুরে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে শুনানির পর নারদ মামলায় ধৃত দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন দুই মন্ত্রী মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দিলেন বিচারক।

তবে শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর হয়েছে জামিন। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মিলেছে বলে জানা গেছে। জামিনে থাকা অবস্থায় রাজ্যের বাইরে বের হতে পারবেন না কেউই। শহরের বাইরে বেরোতে হলেও সিবিআই-এর তদন্তকারীদের কাছে অনুমতি নিতে হবে তাঁদের।

নারদ কাণ্ডে এদিন পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। দুই মন্ত্রী, দুই প্রাক্তন মন্ত্রী ছাড়াও পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জার বিরুদ্ধে মূলত দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃত পাঁচ জনকেই জেল হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বরং এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের আইনজীবিদের যুক্তিই মেনে নিয়েছেন বিচারক।

আরও পড়ুন: বাংলায় বিধান পরিষদ হবে, নিজাম প্যালেস থেকে নবান্নে গিয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিলমোহর মমতার

অভিযুক্তদের আইনজীবীদের গোড়া থেকেই বক্তব্য ছিল, বেআইনি ভাবে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারের আগে বিধানসভার স্পিকারের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ করা হয়ে গিয়েছে, তখন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রয়োজন কী?

জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবীরা তাঁদের সওয়ালে বলেছিলেন, ধৃতরা প্রভাবশালী। তাই তাঁদের বাইরে রাখলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের সেই বক্তব্য মেনে নেয়নি আদালত।

তবে আপাতত এই আইনি লড়াই শেষ হলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর আপাতত চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এ ব্যাপারে বিজেপি কিছুটা নিঃসঙ্গই। কারণ, অন্তত এই ঘটনায় প্রকারান্তরে তৃণমূলের পাশেই রয়েছে বাম,কংগ্রেসও। গ্রেফতারের প্রক্রিয়া, সময় নির্বাচনের নেপথ্যে পরিষ্কার রাজনীতি রয়েছে বলেই তাঁদের মত।

সিবিআই সূত্রের খবর, বিশেষ আদালতের এই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসাররা। আগামীকালই কলকাতা হাইকোর্টে রুজু হতে পারে মামলা। জামিন খারিজের আবেদন করবেন তাঁরা।

You might also like