Latest News

কালীঘাটের সুর আলিমুদ্দিনে, কেন্দ্র ও ধনকড় নিয়েও সরব বিমান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটেও ‘বিজেমূল’ তত্ত্ব নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল বামেরা। বারবার বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল, তৃণমূল আর বিজেপির লড়াই আসলে লোক দেখানো। দুটো দল তলায় তলায় বোঝাপড়া করে চলছে। ভোট মিটতে বঙ্গ সিপিএমের সুর যে বদলেছে তা আগেই মালুম হয়েছিল।

তবে বুধবার বিকেলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু যা বললেন তাতে যেন অনেকেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে কালীঘাটের সুর শুনতে পাচ্ছেন। ভোটের প্রচারে বাম-কংগ্রেস দুই শিবিরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকাররে নিশানা করেছিল। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের নীতি, ধনকড়ের ভূমিকা ইত্যাদির বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার কম ছিল বলে ভোট মিটতে দু-পক্ষই নিজেদের শিবিরে সমালোচনার মুখে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে বিমান বসুর বুধবারের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

কী বললেন বিমান?

প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় স্তরে বাম দলগুলি ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত একপক্ষ কাল বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার মতো ইস্যু। এদিন বিমানবাবু জানিয়েছেন, গতকাল ফ্রন্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৬ বাম দলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করবেন তাঁরা। কিন্তু এ রাজ্যেরও বেশ কিছু ইস্যু তাঁরা এই সময়ে রাস্তায় নেমে মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

রাজ্যের ইস্যুর কথা বলতে গিয়েই বিমান বসু বলেন, ‘কেন্দ্র যে ভাবে রাজ্যের ব্যাপারে নাক গলাচ্ছে তা ঠিক হচ্ছে না। তা ছাড়া রাজ্যপালের ভূমিকাও রাজ্যপালসুলভ নয়।’

এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যপাল তো সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। তিনি তো বিজেপির লোক নন। কিন্তু তিনি এমন সব কাজ করছেন যাতে করে মনে হচ্ছে তিনি বিজেপির-ই লোক।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো সেই কবেই জগদীপ ধনকড়ের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘উনি তো বিজেপির লোক।’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নিয়ম করে আক্রমণ শানান। বলেন, দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে ওঁকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি করে দেওয়া হোক। ইদানিং আবার মহুয়া মৈত্র নিয়ম করে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। কিন্তু যে কথা তৃণমূল বলে, প্রায় একই সুর শোনা গেল বিমান বসুর গলায়।

ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস দেখতে রাজ্যপাল কোচবিহারে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন, বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এবং কোচবিহারের বিজেপি জেলা সভাপতি মালতী রাভা। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজ্যপাল উত্তরবঙ্গে গেলেন। সেখানে তিনি বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেন। কেন করবেন? এটা কি রাজ্যপালের সাজে?’ তা ছাড়া বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনের বারান্দায় বসে ধনকড়ের বৈঠকেরও সমালোচনা করেন বিমান বসু।

একুশের ভোটে বাংলায় বামেরা শূন্য। কংগ্রেসও একটি আসন পায়নি। সংযুক্ত মোর্চার বাতি শুধু জ্বালিয়ে রেখেছে ভাঙড় থেকে জেতা আইএসএফ বিধায়ক নৌসাদ সিদ্দিকি। এদিন বিমান বসুর এই মন্তব্যের পর তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘সিপিএম-কংগ্রেসের ভুল নীতির কারণে আজকে ওদের এই অবস্থা। আমাদেরও খারাপ লাগে বাংলার বিধানসভায় বাম এবং কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি নেই।’ প্রসঙ্গত, ভোটের ফলাফলের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘কেউ শূন্য হয়ে যাক আমি চাই না। বিজেপির জায়গায় ওরা কিছু জিতলে ভাল হতো।’

You might also like