Latest News

বাংলা সিপিএমে দিল্লির তীক্ষ্ণ নজরদারি, পলিটব্যুরো সদস্যদের সুবিধার্থে সম্মেলনের সূচি বদল আলিমুদ্দিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার সিপিএমের (bengal cpm )রাজ্য সম্মেলনেও (state conference) এবার কড়া নজরদারি (watch) চালাতে চাইছে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব (central leadership)। দলের জনা আট পলিটব্যুরো সদস্য (politburo members) সেই কারণেই বঙ্গ সিপিএমের সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে চান। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সম্মেলনের সূচি (programme) ফের বদলাল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট (alimuddin street)।

গত বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ঠিক হয়েছিল ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাওড়া, কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা ও দুই মেদিনীপুর—এই ছ’টি জেলার সম্মেলন হবে। তারপর রাজ্য সম্মেলন হবে ২৯, ৩০, ৩১ মার্চ।

কিন্তু এই বুধবার সম্পাদকমণ্ডলী বসে ফের রাজ্য সম্মেলনের সূচি বদল করল। এদিন ঠিক হয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি রাজ্য সম্মেলন হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই ঘনঘন সূচি বদল?

সিপিএম সূত্রে খবর, এবার দলের রাজ্য সম্মেলনে অন্তত আটজন পলিটব্যুরোর সদস্য উপস্থিত থাকবেন। অন্যবারও পলিটব্যুরোর সদস্যরা থাকেন। কিন্তু এবার পর্যবেক্ষণ হবে কড়া। সেই কারণেই সবার সূচি মিলিয়ে তারিখ ম্যাচ করাতে সূচি বদলাতে হচ্ছে আলিমুদ্দিনকে।

অনেকের মতে, দিল্লি থেকে আসা সর্বভারতীয় নেতৃত্ব নিজে কানে শুনতে চাইছে কী বলছেন বাংলার বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা। বাংলা ভাষা বোঝেন এমন সমস্ত নেতা উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের সম্মেলনে। আবার অনেকে বলছেন, বাংলার পার্টির প্রতি দিল্লির অবিশ্বাস রয়েছে। সেই কারণেই গোটা পলিটব্যুরো প্রায় উঠে আসতে চাইছে এরাজ্যে।

তাঁদের যুক্তি, এবারের বিধানসভা ভোটের পর্যালোচনার সময়েও সেই অবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল। নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছিল সিপিএমে।

কী ঘটনা?

সিপিএমের ভোট পর্যালোচনার একটা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম রয়েছে। সেই অনুযায়ী এই ঘটনা ঐতিহাসিক। সিপিএমের সাংগঠনিক নিয়ম হল, বিধানসভা বা লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রথমে পলিটব্যুরো বসে। তারপর নির্বাচনী পর্যালোচনার নোট তৈরি করা হয় রাজ্যওয়াড়ি। সেই নোট রাজ্য ও জেলার মাধ্যমে নামে শাখা স্তর পর্যন্ত। শাখা থেকে সাধারণ পার্টি মেম্বাররা যে পর্যালোচনা করে তা যায় রাজ্যে। এরপর রাজ্য একটা সামগ্রিক পর্যালোচনা রিপোর্টের খসড়া করে পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটিতে। তারপর কেন্দ্রীয় কমিটি একটি সামগ্রিক ও চূড়ান্ত পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি করে পার্টি মেম্বারদের কাছে পৌঁছে দেয়।

এই হল সিপিএমের সাংগঠনিক নিয়ম। পর্যালোচনা রিপোর্ট ওয়েবসাইটে আপলোড হয় অনেক পরে। কিন্তু এবার যেদিন বাংলা সিপিএমের বৈঠক শুরু হয় সেদিনই তা কেন্দ্রীয় কমিটির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। কারণ বাংলার পর্যালোচনাকে ওয়েস্টবাক্সে ফেলে দিয়েছিল একে গোপালন ভবন।

কেন্দ্রীয় কমিটি যে পর্যালোচনা করেছিল তা অনেক কড়া।  সিপিএমের অনেকের বক্তব্য ছিল, তা যাতে ফিল্টার হয়ে নীচে না নামে সেই কারণেই রাজ্য কমিটির বৈঠকের দিন ওয়েবসাইটে পর্যালোচনা রিপোর্ট আপলোড করা হয়েছিল। এবার রাজ্য সম্মেলনেও আসছেন অনেক দিল্লির পর্যবেক্ষক।

 

You might also like