Latest News

উদ্বেগে চুঁচুড়ার কাবুলিওয়ালারাও, তালিবান দখলে জন্মভূমি, ফেরা হবে কি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের দেশের মাটিতে ঝরছে রক্ত, আকাশে বিমান থেকে ছিটকে পড়ছে প্রাণভয়ে পালাতে চাওয়া মানুষ। আর এদিকে দূরদেশে রুজির টানে পড়ে রয়েছেন এরাজ্যের কাবুলিওয়ালারা। দেশের জন্য তুমুল  চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছেন সে দেশের উত্তাল চিত্র। তালিবান দখলে চলে গেছে জন্মভূমি! পরম দুশ্চিন্তার মধ্যেই প্রার্থনা তাঁদের, ফিরে আসুক দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি। আতঙ্কমুক্ত হোক দেশবাসী।

হুগলির চুঁচুড়ার চকবাজার এলাকায় কয়েক দশক ধরে এমনই দেশান্তরী কাবুলিওয়ালাদের বাস। একটা সময়ে সুদূর আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মূলত সুদের কারবার করতে এদেশে আসতেন কাবুলিওয়ালারা। চকবাজারেও একটি পুরনো বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন তেমনই একদল কাবুলিওয়ালা।

স্থানীয় মানুষদের কাছে এই বাড়ির নাম কাবলি-কুঠি।  এক সময়ে অনেক আফগান এই কাবলি কুঠিতে থাকতেন। এখনও চুঁচুড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছেন তাঁরা। ব্যবসার কাজে দিনভর ব্যস্ততার শেষে তাঁরা কথা বলেন দেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে, কখনও বা তাঁদের ফোনে ভেসে আসে নিজের দেশের ভিডিও। প্রকৃতির সৌন্দর্য সেখানে অকৃপণ। রুক্ষ পাহাড়ের বাঁক মেপে ছুটে চলে চড়াই-উতরাই রাস্তা। রাতের কাবুল শহর ঝলমল করে ওঠে আলোয়।

সেই কাবুলের দখল নিয়েছে তালিবান। অশান্ত কাবুল ছেড়ে পালানোর ভয়ঙ্কর ছবি সামনে এসেছে সারা বিশ্বের। শিউরে ওঠার মতো একের পর এক দৃশ্যে আলোড়িত নাগরিক সমাজ।

এই তালিবান শাসনে কী হবে আফগানিস্তানের ভবিষ্য! সারা বিশ্বের মতোই চুঁচুড়ার কাবুলিওয়ালাদেরও এখন এটাই প্রশ্ন। তালিবান কী করছে, সেদিকেই নজর থাকবে প্রতি মুহূর্তে, এমনটাই বলেন কাবুলিওয়ালা আইনুদ্দিন খান। আফগানিস্তানের এই অবস্থার পিছনে আরও অনেক দেশই দায়ী বলে মনে করেন আইনুদ্দিনরা। তাঁদের প্রশ্ন, তিন লাখের উপর সেনা দশ দিনে কী করে আত্মসমর্পণ করল।

আইনুদ্দিন খান গত ১৩ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছেন। একরকম পালিয়ে এসেছেন বলা যায়। কাবুলের এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় রাস্তায় তাঁর পথও আটকায় তালিবান। কিন্তু তাঁর কাছে ভারতের পাসপোর্ট দেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।আজ মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন আইমুদ্দিন, মা ফোনে জানিয়েছেন, এখনও ঠিক আছে।

আর এক কাবুলিওয়ালা জামাল জানান, তাঁরা শান্তি চান, শিক্ষা চান, দেশের উন্নতি চান। ওখানে কিছু নেই, অন্য দেশ সাহায্য করলে তবেই দেশের ভাল হবে। কিন্তু আগামী দিনে কী হবে, এখনই কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

তবে সেই সঙ্গেই তাঁরা বলছেন, কুড়ি বছর আগের তালিবান আর আজকের তালিবান এক নয়, কী হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

You might also like