Latest News

বাঁধের পথে দুর্ঘটনা, উল্টে গেল ভ্যান, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ববর্ধমান: এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায়। অভিযোগ করেও কোনও সুফল পাননি মানুষজন। রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ।আশংকাকে সত্যি করে ১১ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে সেই গর্তেই উল্টে যায় মালপত্র সমেত একটি ভ্যান। গুরুতর আহত চালককে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এই ঘটনার পরেই বাঁধের রাস্তা সংস্কার করার দাবিতে পথ জুড়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন৷ পূর্ব বর্ধমানের দামোদরের ধারে ইদিলপুর এলাকার ঘটনা।

বর্ধমানের সদরঘাটের কৃষকসেতুর আগে একটি রাস্তা বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের দিকে চলে গেছে। প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার বিস্তৃত এই রাস্তা মূলত দামোদরের নদীবাঁধ। বাঁধের উপর দিয়েই যাতায়াত করেন স্থানীয় মানুষজন, চলে যানবাহনও।  এই রাস্তার উপরেই রয়েছে সেচ দফতরের পরিদর্শন বাংলো। সদরঘাটের এই রাস্তাটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ,যার উপর নির্ভর করেন বেলকাশ, ইদিলপুর, বহরপুর, ফকিরপুর, মিলিকপাড়া, উদয়পল্লী সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া দামোদরের চরে রয়েছে একের পর এক সবজি খেত। এইসব খেতের ফসলও বাজারজাত হয় দামোদর বাঁধের এই পথ দিয়েই।

বেশ কয়েক বছর ধরে দামোদর নদীবাঁধের এই রাস্তার দশা অত্যন্ত বেহাল। রাস্তার উপর মাঝেমাঝেই বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সেই গর্ত প্রায় থেকে দেড় হাত মাপের। শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে এই পথ ধরেই ভ্যানে করে কল সারাইয়ের মালপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন ভোলা সরকার। রাস্তায় গর্তে পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় ভ্যানটি। আহত হন সঙ্গের চালক ভোলাবাবুও। এলাকাবাসীদের সহায়তায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার পরেই স্থানীয় মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয় চলাচলের পথ। আটকে পড়ে বিভিন্ন যানবাহনও। যদিও কিছুক্ষণ পরেই মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। তারপরও এলাকায় যথেষ্ট অশান্তি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দেবব্রত মণ্ডল, চন্দনা মণ্ডল, সুমনা মণ্ডলরা বলেন, এই রাস্তা দিয়ে একের পর এক বালির লরি যায়। অন্যান্য যানবাহনও যাতায়াত করে। ফলে সারা বছরই রাস্তার হাল খারাপ থাকে। খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায় রাস্তা। বহুবার অভিযোগ জানানোর পরও হুঁশ নেই প্রশাসনের।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা রঙ্গাজীব রায় এদিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, বর্ষার মরশুম চলছে৷ তার উপর রাস্তা দিয়ে চলাচল করে ট্রাক্টর। সেই ট্র‍্যাকটরের চাকা বসে রাস্তার অবস্থা আরও বেহাল হয়ে গেছে।শুক্রবার সকালেই একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। খুব দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনও মুহূর্তে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।

রাস্তা সারাই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে সেচ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, দামোদর বাঁধের রাস্তাটি পাবলিক রোড নয়। ওটি পরিদর্শনের পথ। কিন্তু এখন ওই রাস্তাটি সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেন। আজ কী হয়েছে তার কিছুই জানিনা। তবে রাস্তা সারাইয়েত বিষয়ে দফতর নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করবে। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন “বাঁধের রাস্তাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছে। সমস্যার বিষয়টি আমাদের অবগত আছে। এই বিষয়টি দেখার জন্য সেচ দফতর এবং পূর্ত দফতরকে যৌথভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।”

You might also like