Latest News

এমন গাছটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, বিশ্বাসে মিলায় পিরবাবা আর লাল তেঁতুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘‘তেঁতুল বটের কোলে/দক্ষিণে যাও চলে/ঈশান কোনে ঈশানী/কয়ে দিলাম নিশানী,’’ গুপ্তধন নেই, তবে এমন জিনিস রয়েছে যেটা দেখলে মন আর মুখ, দুইই বলে উঠবে আহা! কতটা উত্তরে বা কতটা দক্ষিণে সেটা না বললেও চলবে। কারণ এলাকায় পা দিয়ে হদিস চাইলে যে কেউ পথ দেখিয়ে দেবে। ঝুপসি বটের কোল ঘেঁষেই খাড়া দাঁড়িয়ে রয়েছে বুড়ো তেঁতুল গাছ। চমক রয়েছে সেখানেই।

শিয়ালদা-রানাঘাট শাখার চাকদহ পালপাড়ার মাঝে ছোট্ট এলাকা। ছুটি কাটাতে বড়জোর কেউ আসেন না। তবে মাস গেলে তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা লেগে থাকে। সবই ওই তেঁতুল গাছের জন্য। লোকে বলে লাল তেঁতুল। আশ্চর্যই বটে। তেঁতুল ভাঙলেই টকটকে লাল আভা যেন ছড়িয়ে পড়ে। এক ঝলক দেখলে মনে হবে পেকে টসটসে হয়ে রয়েছে ভিতরটা। আসলে তা নয়, জন্ম থেকেই এই গাছের তেঁতুলের রঙ ভোরের প্রথম আলোর মতোই লাল।

প্রকৃতির বিস্ময় কিনা জানা নেই, তবে এই লাল তেঁতুলকে ঘিরেই একটা বিশ্বাস দানা বেঁধে রয়েছে বহু বছর ধরে। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসও। তেঁতুল গাছ যেখানে মাথা তুলে রয়েছে, সেই জায়গার নামও বড় অদ্ভুত। আজগুবি তলা। তবে শুরুতে তেমনটা ছিল না। আগে এই এলাকার নাম ছিল কাজীপাড়া। পরবর্তীতে পুরসভা হাতবদল হয়। বর্তমানে চাকদহ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড। বর্ষীয়ানরা বলেন, একসময় কয়েক ঘর মুসলিমের বাস ছিল এই এলাকায়। তেঁতুল গাছের নীচেই ছিল একটি মাজার। কথিত আছে, এতকসময় সেখানে বাস জমিয়েছিলেন এক পিরবাবা। তাঁর নাম আজ আর মনে নেই এলাকাবাসীর তবে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার কথা লোকের মুখে মুখে ফেরে।

জল পড়া, তেল পড়া দিয়ে তিনি নাকি বহু মানুষের রোগ নিরাময় করেছিলেন। আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে এই পিরবাবার কথা। শুধু মুসলিম নয়, দূরদূরান্ত থেকে নানা ধর্মের মানুষ আসতে শুরু করেন তাঁর কাছে। এই পিরবাবার মৃত্যু হলে তেঁতুল গাছের নীচেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এর পর থেকে সেই গাছে লাল তেঁতুলের ফলন শুরু হয়।

লাল তেঁতুল খেতেও নাকি চমৎকার। এর টক-মিষ্টি স্বাদ অন্যান্য তেঁতুলের থেকেও শতগুণে ভালো। এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর। দৈবকৃপায় হওয়া লাল তেঁতুল, তাই পেড়ে খাওয়ার অনুমতি নেই মানুষজনের। গাছ থেকে তেঁতুল মাটিতে পড়লে তবেই তা গ্রহণযোগ্য। এই নিয়ম মেনে চলেন এলাকার সকলেই। প্রতি শুক্রবার দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের ঢল নামে আজগুবি তলায়। কেউ ঢিল বাঁধেন, কেউ গরুর দুধ দিয়ে পুজো সারেন।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য দৈবকৃপার কথা ঠিক মেনে নেননি। কৃষি বিজ্ঞানী জয়ন্ত তরফদার জানিয়েছেন, তেঁতুল লাল হওয়ার কারণ এর ভিতরে থাকা বিশেষ লাল রঞ্জক বা পিগমেন্ট। ঠিক যেমনটা বীটের ভিতর থাকে। তাই এই গাছের তেঁতুল ফল লাল রঙের। তবে বিশদে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই তথ্যে শিলমোহর দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসী অবশ্য এত বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। গাছের নীচে পিরবাবার সমাধিতে আজও ফুল, চাদর জড়ানো হয়। গাছকে ভক্তি ভরে পুজো করেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তেরা। অনেকেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন এমন লাল তেঁতুল গাছ নাকি গোটা দেশের কোথাও নেই। বিজ্ঞানের তথ্য যাই বলুক, মানুষের বিশ্বাসে যে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি সেটা প্রতি সপ্তাহে ভক্তদের ভিড় দেখলেই মালুম হয়।

আরও পড়ুন:

তিস্তা পাড়ে আসন পেতে গরম গরম মাংস-ভাত, ভিখারিদের নিয়ে বনভোজনে মাতলেন এ কোন ‘চার্লি চ্যাপলিন’

https://www.four.suk.1wp.in/2019/01/28-01-2019-west-bengal-news-chaplin-of-jalpaiguri-sponsors-a-picnic-with-beggars/

You might also like