Latest News

জলপাইগুড়িতে প্রাচীন রীতি মেনে ৩টি পুজো, বজরায় চেপে আসতেন দেবী চৌধুরানী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরছে গ্রাম বাংলা। আজ রথযাত্রার পরদিন বৈকুন্ঠপুরের প্রাচীন রীতি মেনে ফালাকাটা, তুলাকাটা ও ঢেনাকাটা মন্দিরে পুজোয় মাতলেন গ্রামবাসীরা। পুজো চলাকালীন অবশ্য সেখানে করোনা বিধি মেনে চলা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। জলপাইগুড়ি জেলার তিস্তা নদীর দু’পার জুড়ে দেবী চৌধুরানী কে নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মিথ। এখানে যেমন রয়েছে দিল্লি ভিটা চাঁদের খাল এলাকার বনদুর্গার পুজো, তেমনই রয়েছে ফালাকাটা, তুলাকাটা, ঢেনাকাটার পুজো। যা মূলত রাজবংশী সমাজের কৃষকেরাই করে থাকে।

কথিত আছে, এই শিবভূমিতে শিব ঠাকুর যখন লুকিয়ে ছিলেন, তখন দেবী পার্বতী এই অঞ্চল থেকে শিবকে খুঁজে বের করতে মেছেনি রুপ ধারন করেছিলেন। রয়েছে অন্য কাহিনিও। আষাঢ় মাসে অম্বুবাচির পরের সপ্তাহে তিস্তা নদীর পথ ধরে বাংলাদেশ থেকে জলপাইগুড়ি বৈকুন্ঠপুরে বজরায় চেপে আসতেন দেবী চৌধুরানী। এরপর তিনি নদী পথেই ফের তিস্তা নদী থেকে করোতোয়া নদী পথ ধরে চলে আসতেন বৈকুন্ঠপুরের খটখটিয়া ঘাটে।

সেখানে নৌকা নোঙর করার পর বৈকন্ঠপুরের গভীর জঙ্গল পথ ধরে শিমুলগুড়ি, ভোটবাড়ি প্রভৃতি গ্রামে এসে শিবের পুজো দিতেন। এরপর গ্রামবাসীরা আমন ধান রোপন করতেন। আজও সেই স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে রাজগঞ্জের ভোটবাড়ি গ্রামে থাকা শিবস্থান ফালাকাটা, ঢেনাকাটা, তুলোকাটার মন্দিরে পুজো দেন ভক্তগন। পাশাপাশি মেলাও হয়। এ বছর করোনার কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পুজো হয়েছে ঠিকই, তবে মেলা বসেনি।

এলাকার মহিলারা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে আমরা এখানে এসে পূজো দেই। এই পূজো আমাদের করতেই হবে। নইলে আমরা চাষবাস শুরু করতে পারবো না। তাই মন্দিরে এসে মানত করে পুজো দিয়ে গেলাম। মন্দির কমিটির সদস্য স্বপন বিশ্বাস জানান, একশো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই পূজো। স্থানীয় কৃষকেরা এই পুজো না দিয়ে আমন ধান চাষ করা শুরুই করবেন না। করোনার কারনে আমরা এবারেও কোনো প্রচার করিনি। তবুও মানুষ করোনা আতঙ্ককে দূরে সরিয়ে এখানে এসেছে। দুপুর থেকে শুরু হয়েছে পুজো, যা গভীর রাত অবধি চলবে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, এই মন্দিরকে রাজ্য পর্যটনের আওতায় আনা হোক।

You might also like