Latest News

লাইনে হঠাৎ হাতির পাল, ব্রেক কষলেন চালক, মিলল পুরস্কার

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : মঙ্গলবার বিকেলে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলপথ ধরে এগোচ্ছিল ডাউন ধুবরি-শিলিগুড়ি প্যাসেঞ্জার ট্রেন। বিকেল গড়ালেও সন্ধে নামেনি তখনও। দূর থেকে চালক দেখলেন সামনে প্রায় ১৫টি হাতির পাল। ধীরে ধীরে রেললাইন পেরিয়ে এক জঙ্গল থেকে ঢুকে পড়ছে অন্যপারের জঙ্গলে। ট্রেন তখন আলিপুরদুয়ার জংশন ও রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের মাঝে। কোনওমতে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দিলেন চালক ও সহ চালক। তারপর প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলো সেখানেই। হাতির পাল জঙ্গলে ঢুকে পড়লে চালু হল ট্রেন।

ট্রেন চালকদের তৎপরতায় এতগুলি হাতির প্রাণ বেঁচে যাওয়ায় উচ্ছ্বসিত উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। ট্রেনের চালক হরিদাস বিশ্বাস ও সহচালক গৌতম কুমারকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। এই ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার অমর মোহন ঠাকুর বলেন, “জঙ্গলের পথে কীভাবে ট্রেন চালাবেন, সে ব্যাপারে চালক- সহ চালক-  গার্ড ও অন্যান্য রেলকর্মীদের আমরা বিভিন্ন সময় ট্রেনিং দেই। সেখানে বনকর্তারাও উপস্থিত থাকেন। ট্রেনের চালক ও সহ চালকরা যে সচেতন এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল। আমরা চালক ও সহচালক দুজনকেই পুরস্কৃত করব।”

ডুয়ার্সের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেল লাইনে হাতির গতিবিধি রেল ও বনদফতরের বরাবরের মাথাব্যথার কারণ। এই নিয়ে এই দুই দফতরের টানাপড়েনও নতুন নয়। ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যু ঠেকাতে ২০১২ সালে রাজ্যের বনদফতর ও রেল যৌথ কমিটি গঠন করে। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল, রেলের  আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এডিআরএম, ও  দু’পক্ষের অন্য উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা এই কমিটিতে রয়েছেন। প্রতি তিনমাস অন্তর বৈঠক করেন এই কমিটির সদস্যরা।

আলিপুরদুয়ার থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার রেলপথে হাতির ৮ টি করিডর রয়েছে। ২০০৩ সালে এই রেলপথ মিটার গেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত এই পথে ট্রেনের ধাক্কায় ৫১টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তরবঙ্গে রেলে কাটা পড়ে কোনও হাতির মৃত্যু না হলেও ২০১৮ সালে ফের ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

রেল দফতর সুত্রে জানা গেছে, হাতির করিডোর থাকায় জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা থেকে ক্যারন পর্যন্ত ট্রেনের গতিবেগ দিনে রাতে সবসময় ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার ছিল। সেখানে বর্তমানে গতিবেগ বাড়িয়ে ৭০ কিলোমিটার করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে চালসা থেকে নাগরাকাটা, নাগরাকাটা থেকে ক্যারন, ক্যারন থেকে  দলগাঁও, মাদারিহাট থেকে হাসিমারা, হাসিমারা থেকে কালচিনি এবং কালচিনি থেকে রাজাভাতখাওয়া পর্যন্ত বিকেল পাঁচটা থেকে পরের দিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ট্রেনের গতিবেগ কমিয়ে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার করা হয়েছিল। ওই পথে সেই গতিবেগ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার করা হয়েছে। পাশাপাশিই সতর্কতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে ট্রেনের চালক, সহচালক ও গার্ডদের।

You might also like