Latest News

মঙ্গলকোটে তৃণমূলের বুথ সভাপতি খুনে আটক ছয়, জেলায় চিরুনি তল্লাশি

জেলা পুলিশসুপার ভাস্কর মুখার্জি বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের খোঁজে জেলায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের উপস্থিতিতে তদন্ত চলছে।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তৃণমূলের বুথ সভাপতি সঞ্জিত ঘোষ(৩৫) খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছ’জনকে আটক করল পুলিশ। মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশসুপার ভাস্কর মুখার্জি বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের খোঁজে জেলায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের উপস্থিতিতে তদন্ত চলছে।’’

তিনি জানান, কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পুলিশ আধিকারিকরা এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। বুধবার সকালে পুলিশসুপার নিজে মঙ্গলকোটের নিগন গ্রামে যান। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সঞ্জিতের বাবা সাগর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আমার ছেলে সারাদিন দলের কাজই করতো। পরিকল্পনা করেই তাঁকে মারা হয়েছে।’’ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘‘পরিশ্রমী ছেলে ছিলেন সঞ্জিত। দল অন্ত প্রাণ ছিলেন। তাকে খুন করা হল। তাঁর পরিবারের পাশে থাকবে দল।’’

তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই এই ঘটনার জন্য বিজেপি নেতা সৌমিত্র খানের উস্কানিমুলক বক্তব্যকে দায়ী করে তৃণমূল নেতৃত্ব।  জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি রাসবিহারী হালদার বলেন, ‘‘সোমবার সৌমিত্র খানের সভা থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হয়। তারপরেই দলবল নিয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা সঞ্জিতের উপর চড়াও হয়। মারতে মারতে তাকে মেরেই ফেলল।’’

যদিও সৌমিত্র খান দাবি করেন, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। এটা পুরোপুরি তৃণমূলের গোষ্ঠীকলহের ফল। তিনি বলেন, ‘‘অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর বিবাদে এ ঘটনা ঘটেছে।’’ যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সঞ্জিত ঘোষ। নিগন গ্রামে নিজের বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয়। ভাঙচুর চালানো হয় তাঁর গাড়িতেও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। অবস্থা্ আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মারা যান তিনি।

 

 

You might also like