Latest News

অবরোধে আটকে পড়া পরীক্ষার্থীদের বাসে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন বাম-কংগ্রেস কর্মীরাই

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে আটকে গিয়ে এদিন পরীক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তাঁদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি প্রশাসনও। বাস আটকা পড়ে যায় আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে। অন্য কোনও বেসরকারি পরিবহণও ছিল না। এই অবস্থায় বনধ সমর্থনকারীরা চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে তাঁদের একটি বাসে তুলে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে রওনা করিয়ে দেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: আটকে পড়া পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বাসে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে আলিপুরদুয়ার শহরে অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বনধ সমর্থনকারীরা।

শুক্রবার সকাল ৯ টা নাগাদ বাম ও কংগ্রেসের কর্মীরা একসঙ্গে আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে রাস্তায় বসে বনধের সমর্থনে পিকেটিং করতে থাকেন। বাম কংগ্রেস কর্মীদের রাস্তায় বসে যাওয়ার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আলিপুরদুয়ার চৌপথি। দাঁড়িয়ে যায় ওই পথে যাওয়া সব বাস। অবরোধের জেরে আটকে পড়েন পরীক্ষার্থীরাও। কোচবিহার আইটিআই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে বনধ সমর্থনকারীদের পিকেটিংয়ের জেরে আটকে পড়েন। বাস থেকে নেমে অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কোচবিহার পলিটেকনিক কলেজেও এদিন প্রথম বর্ষের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষার্থীরা এদিন আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে বনধে আটকে পড়েন। বাস থেকে নেমে কার্যত পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরীক্ষার্থীদের একজন সুপ্রিম শর্মা বলেন, ‘‘আচমকা এই বনধ ডাকা হয়েছে। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। তাঁদের সাফ জবাব সরকারি নির্দেশ রয়েছে পরীক্ষায় বসতে না পারলে ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। এই অবস্থায় প্রশাসন আমাদের কোনও রকম সহযোগিতা করেনি। কিন্তু বনধ সমর্থনকারীদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ কারণ আবেদনের পর তাঁরা আমাদের একটি সরকারি বাসে চাপিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছেন।”

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে আটকে গিয়ে এদিন পরীক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তাঁদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি প্রশাসনও। বাস আটকা পড়ে যায় আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে। অন্য কোনও বেসরকারি পরিবহণও ছিল না। এই অবস্থায় বনধ সমর্থনকারীরা চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে তাঁদের একটি বাসে তুলে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে রওনা করিয়ে দেন।

আলিপুরদুয়ার জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি শান্তনু দেবনাথ বলেন,  “আমরাও মানুষ। রাজনীতি করি বলে আমাদের হৃদয় নষ্ট হয়ে যায়নি।  বুধবার নবান্ন অভিযানে পুলিশের মারধরের প্রতিবাদে আচমকাই এই বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আমরা পরীক্ষার্থীদের এদিন ছাড় দিয়েছি। বাসে করে তাঁরা যেন পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে পৌঁছতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” বাম কর্মীরাও এদিন একই সুরে কথা বলেন। ডিওয়াইএফআই এর জেলা সম্পাদক রাজু ব্যানার্জি বলেন, ‘‘বেকারদের কাজের দাবিতেই নবান্ন অভিযান করেছিলাম আমরা। পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছি।’’

You might also like