Latest News

পেট কেটে বেরোল দেড় কেজিরও বেশি গয়না! হার-দুল-লকেট-ঘড়ি, কী নেই তাতে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেটে তীব্র ব্যথা আর বমির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তরুণী। ব্যথার কারণ খুঁজতে গিয়ে সিটি স্ক্যান করা হয়। আর তাতেই বড় চমক! পাকস্থলীতে ভর্তি ধাতব জিনিসপত্র! তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন রামপুরহাট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচার করার সময়ে পেট কাটতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁদের! পেটে গিজগিজ করছে গলার হার, কানের, দুল, চেন, লকেট, কয়েন, ঘড়ি!

চিকিৎসকদের হতবাক দশা তখন। মূল সার্জেন সিদ্ধার্থ বিশ্বাসের কথায়, “পেট তো নয়, যেন রত্নভাণ্ডার!” নানা আকারের অসংখ্য গয়নায় ভর্তি ২১ বছরের তরুণীর পাকস্থলী! গয়নার পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছে অসংখ্য ৫ ও ১০ টাকার কয়েনও৷ একটি হাতঘড়িও ছিল। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরে এক এক করে সেগুলো পেট থেকে বার করে আনতে সফল হন ডাক্তাররা। অস্ত্রোপচার শেষে টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয় প্রায় দু’কেজি গয়না!

সূত্রের খবর, বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার বিনোদপুর গ্রামের  বাসিন্দা, রুনি খাতুন নামের বছর একুশের ওই তরুণী মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন। পেটে ব্যথার কারণে সাত দিন আগে তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তরুণীর বাড়ির লোকজন। সেখানেই পরীক্ষা-নিরিক্ষা হওয়ার পরে তাঁর পেট কেটে অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের চিকিৎসক সিদ্ধার্থ বিশ্বাস। বার করে আনেন সব গয়না।

ডক্টর বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রথমে এক্স-রে করে নানা জিনিসপত্র আছে বলে দেখা যায় রোগীর পেটে। তার পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য করা হয় সিটি স্ক্যান। তখনই দেখা যায় এত পরিমাণে ধাতব পদার্থ রয়েছে পেটে। তিনি বলেন, “রোগীর হিমোগ্লোবিন ছিল চার। অ্যালবুমিনও ছিল খুব কম। অপারেশন করা সম্ভব ছিল না এই অবস্থায়। সাত দিন ধরে পাঁচ ইউনিট রক্ত ও আরও ওষুধ দিয়ে আগে স্থিতিশীল করা হয় প্যারামিটারগুলি। কৃত্রিম পদ্ধতিতে বাড়ানো হয় পুষ্টি। তার পরে আজ সকালে চার জন মিলে দেড় ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে যাই আমরা! এই দৃশ্য যে পেটের ভিতরে দেখব, স্বপ্নেও ভাবিনি!”

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগিণীর পেটে ৬০টি কয়েন, সোনা ও রুপোর আংটি, চেন, নূপুর, কানের দুল, লকেট, মার্বেল– এই সমস্ত কিছু পাওয়া গেছে। মোট ৩৩৪টা জিনিস বার করা হয়। এ ছাড়াও অসংখ্য ছোট্ট আংটা, পিন, হার আটকানোর এস– ইত্যাদি ক্ষুদ্র জিনিস পাকস্থলীর দেওয়াল জুড়ে আটকে ছিল। সমস্তটা বার করতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় সার্জেনদের। কোনও কোনও জিনিস বার করতে সাহায্য নেওয়া হয় ম্যাগনেটেরও। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরে এখন সুস্থ আছেন তরুণী।

তরুণীর পরিবারের দাবি, বাড়িতে প্রায়ই নানা গয়না উধাও হয়ে যাচ্ছে কয়েক মাস ধরে। কিন্তু সেগুলো যে মানসিক ভারসাম্যহীন রুনি খেয়ে ফেলছেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ। রুনিদের বাড়ির পাশেই একটি মণিহারি দোকান রয়েছে। সেখানে প্রায়ই যেতেন রুনি। সেখান থেকে সকলের অলক্ষে নিয়ে আসতেন ইমিটেশনের গয়না, কয়েন। সুযোগ পেলেই খেয়ে ফেলতেন সেগুলি।

পেট থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের তালিকা।

রুনি খাতুন নামের ওই তরুণীকে অস্ত্রোপচারের পরে দেখানো হয় গয়নাগুলি। জিজ্ঞেস করা হয়, কেন তিনি খেয়েছিলেন এই সব? রুনির দাবি, “আমি খাইনি কিছু, এ সব আল্লার দান।”

 

You might also like