Latest News

STATE FINANCE : ভাঁড়ার শূন্য, ঋণভারে দেউলিয়া হওয়ার জোগাড় মোদীর গুজরাত, মমতার বাংলার

অমল সরকার

তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (STATE FINANCE) প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন, নতুন রাস্তা, নতুন হাসপাতাল, নতুন স্কুল করার মতো টাকা সরকারের নেই। চালু প্রকল্পগুলি সময়ে শেষ (STATE FINANCE) করাই তাঁর লক্ষ্য।

সরকারের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে বিধানসভার সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা (STATE FINANCE) শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, আমি একটি ব্যাপারে ওঁর সততার প্রশংসা করি। সরকারের টাকা নেই, এই কথাটি উনি খোলাখুলি বলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক দুরবস্থা (STATE FINANCE) চলছে সেই বাম আমল থেকে। তৃণমূল জমানায় তা আরও খারাপ হয়েছে, এই তথ্য সকলের জানা। কিন্তু কতটা খারাপ রাজ্য সরকারের ভাঁড়ারের?

গত ২৮ মার্চ বিধানসভায় কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) রিপোর্ট পেশ করেছে রাজ্য সরকার। তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই অডিট সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি কোষাগারের ঘোর দুর্দিন আসন্ন। তারা বলেছে, সরকারের আবশ্যিক খরচ অর্থাৎ যেটুকু না করলেই নয়, সেই বাবদ খরচের টাকার ৫৮.৮৩ শতাংশই এসেছে বাজার থেকে ধার করা টাকা থেকে।

আবশ্যিক খরচ কী কী? এরমধ্যে আছে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক প্রমুখের বেতন, পেনশন, হাসপাতালের খরচ এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের ভাতা ইত্যাদি। আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল থাকলে এই ধরনের খরচ রাজস্ব বাবদ সরকারের নিজস্ব আয় থেকেই সামাল দেওয়া যেত।

সিএজি বলেছে, এর ফলে নতুন সম্পদ তৈরি হচ্ছে না। আর বলাই বাহুল্য, তা না হলে সরকারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে উন্নয়নের নিরিখে রাজ্য পিছিয়ে পড়বে নতুন রাস্তা, নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নতুন হাসপাতাল, নতুন স্কুল-কলেজ তৈরি না হলে।

সব রাজ্য সরকারই বাজেট ঘাটতির মোকাবিলায় বাজারে বন্ড ছেড়ে টাকা তোলে। মূলত ব্যাঙ্কগুলি বন্ডের বিনিময়ে সরকারকে টাকা জোগায়। কেন্দ্রীয় সরকারও এইভাবে ধার করেই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিন দিন ঋণভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে। ধার করে করে সরকারের এমন অবস্থা যে আগামী দিনে শুধু ধার মেটাতেই ধার করতে হবে। সিএজি বলেছে, ২০২০-’২১ সালে ধারের পরিবার আগের বছরের থেকে ১২.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরের তিন বছরে তা যথাক্রমে ১৫.৪৯ শতাংশ, ২৬.৬০ শতাংশ এবং ৪১.৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।

সিএজি’র এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অবশ্য খুব বেশি সরব হওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, গত পরশু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাতে সেখানকার বিজেপি সরকার বিধানসভায় যে সিএজি রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে গুজরাত সরকারকে ‘ঋণের ফাঁদ’ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে কেন্দ্রীয় হিসাব পরীক্ষক সংস্থা বলেছে, ধার শোধ দেওয়ার সুচিন্তিত পথ খুঁজে বের করতে হবে এখনই। সিএজি বলেছে, আগামী সাত বছরে সরকারের ধারের টাকার ৬১ শতাংশ ফেরৎ দিতে হবে, নতুন করে ধার করার আগে এটা যেন তারা মাথায় রাখে।

গুজরাত নিয়ে সিএজি’র আরও একটি পর্যবেক্ষণ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী যখন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বেচতে ব্যস্ত তখন গুজরাতের বিজেপি সরকার রাজ্য সরকারের হাতে থাকা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলির পিছনে বিপুল অর্থ খরচ করছে।

আরও পড়ুন : AKHILESH YOGI ভোটের পর ফের কথা বন্ধ লখনউয়ের কাকা-ভাইপোর

You might also like