Latest News

ফের সমাজবাদী পার্টির সভাপতি হয়ে ‘বুয়া’ মায়াবতীর হাত ধরার ইঙ্গিত দিলেন ‘ভাতিজা’ অখিলেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বৃহস্পতিবার সমাজবাদী পার্টির (SP) সর্ব ভারতীয় সভাপতির পদে পুনরায় নির্বাচিত হলেন অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। আগের বারও একই ভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে অবশ্য কোনও চমক নেই। প্রায় সব আঞ্চলিক দলেই এক পরিবারের একই ব্যক্তি বছরের পর বছর শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকেন। অখিলেশের আগে তাঁর বাবা মুলায়ম দীর্ঘদিন দলীয় সভাপতি ছিলেন। বুধবার টানা ১৩ বার আরজেডি’র সর্ব ভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লালু প্রসাদ যাদব।

তবে আজ অখিলেশের ফের সভাপতি হওয়ার খবরকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে তাঁর ভাষণ। আজ লখনউয়ে সাংগঠনিক নির্বাচনের মঞ্চে অখিলেশ ভাষণে নিশানা করেন শুধুই বিজেপিকে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভাষণে বহুজন সমাজবাদী পার্টি (BSP) এবং সেই দলের সুপ্রিমো মায়াবতীর (Mayawati) সম্পর্কে কোনও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেননি। বরং, লোহিয়া ও আম্বেদকরবাদীদের এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টি হল লোহিয়াবাদী। অন্যদিকে, আম্বেদকরবাদী হল বহুজন সমাজবাদী পার্টি।

অখিলেশের এই বক্তব্য থেকে অনেকেই মনে করছেন, সমাজবাদী নেতা আসলে ২০২৪ -এর লোকসভা ভোটে মায়াবতীর হাত ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী ও অখিলেশ বুয়া, ভাতিজা বলে পরিচিত। অখিলেশের বাবা, সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুলায়ম সিংহ যাদবকে ব্যক্তিগত পরিসরে বড়া ভাইয়া বা বড়দা বলে সম্বোধন করেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। সেই সূত্রে অখিলেশ বুয়া সম্মোধন করেন মায়াবতীকে।

কিন্তু রাজনীতিতে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েন না। অনেক সময় তা ব্যক্তিগত আক্রমণের স্তরে নেমে আসে। কিন্তু আজ অখিলেশ ছিলেন ভিন্ন মুডে। যা থেকে অনেকেই মনে করছেন, বুয়া-ভাতিজা কাছাকাছি আসতে পারেন ২০২৪ – এর কথা মাথায় রেখে।

দু’জনের হাত ধরার যথেষ্ট বাস্তব পরিস্থিতিও রয়েছে। আর তা যদি হয় তাহলে বিপাকে পড়তে পারে বিজেপি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে এসপি এবং বিএসপি জোট করে লড়াই করে। দুই দল মিলে ১৫টি আসনে বিজয়ী হয়। তারমধ্যে মায়াবতীর পার্টি ১০টি আসন জেতে।

কিন্তু ভোটের পরই দুই দলের বোঝাপড়া ভেঙে যায়। অখিলেশের দল অভিযোগ তোলে বিএসপি অনেক জায়গায় তাদের ভোট না দেওয়ায় এসপি’র প্রার্থীরা জিততে পারেননি।

এবছর বিধানসভার ভোটেও দু দলের বোঝাপড়া হয়নি। বরং বহু আসনে দু দলের লড়াইয়ের ফলে আসন হাতছাড়া হয়। এই সুযোগে ক্ষমতা ধরে রাখে বিজেপি।

কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলাফল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অখিলেশের দল ১১১টি আসন জিতলেও ভোট পেয়েছে ৩২ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ ক্ষমতায় আসতে না পারলেও তাদের পক্ষে ভোট রয়েছে যথেষ্ট।

একই ছবি বিএসপি’র। মায়াবতীর দল আসন পেয়েছে মাত্র একটি। কিন্তু ভোট পেয়েছে ১৩ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে দুই দলের হাতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট আছে। এই পরিস্থিতিতে এসপি ও বিএসপি ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে জোট বাঁধলে বিপাকে পড়তে পারে বিজেপি।

অশোক গেহলট কংগ্রেস সভাপতি পদে লড়বেন না, ক্ষমা চাইলেন সনিয়ার কাছে

You might also like