Latest News

‘চোখের সামনে দুই বাচ্চাকে রেপ করে বিষ খাওয়াল, কিছু করতে পারলাম না’, নৃশংসতার সাক্ষী মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারকীয় বললেও যেন কম বলা হয়। চরম বিকৃত মানসিকতার শিকার হল দুই নাবালিকা। চার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে তাদের ধর্ষণ করে, কীটনাশক খাইয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল হরিয়ানার সোনিপতে! আর এই সবটাই ঘটে তাদের মায়ের চোখের সামনে!

আদতে বিহারের বাসিন্দা, ৩৫ বছরের তরুণী, ওই দুই নাবালিকার মা বলছিলেন, বছর দশের আগে মারা গেছেন স্বামী। তার পরে গত বছর লকডাউনে কাজকর্ম সব চলে যায়। বিহারে কাজ হারিয়ে হরিয়ানায় চলে এসেছিলেন তাঁরা।

পেটের দায়ে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন সোনিপতের একটি এককামরার ঘর ভাড়া নিয়ে। ভালই ছিলেন তাঁরা। তাঁর দুই ছেলে ১৮ এবং ১৪ বছর বয়সি। দুই ছেলে এবং তিনি নিজে একটি নির্মাণস্থলে কাজ করতেও শুরু করেছিল। কিন্তু ওই একটা রাতে গোটা জীবনটা তোলপাড় হয়ে গেছে তাঁদের। দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি, এন মর্মান্তিক নির্যাতনের শিকার হতে হবে ছোট্ট দুই মেয়েকে!

৫ অগস্টের এই ঘটনায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছেন মা। কয়েক দিন পরে পুলিশের কাছে যাওয়ার সাহস ও শক্তি পান তিনি। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এককামরার ঘরের বাইরে বসে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তরুণী বলেন, “তখন রাত একটা পেরিয়ে গেছে। আচমকাই চার জন এসে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল। পাশেই থাকে ওরা। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি, কোনও বিপদ হয়েছে ভেবে দরজা খুলে দিই। কিন্তু তার পরে ওরা আমার দুই মেয়েকে জোর করে ধর্ষণ করে। আমি ভয়ে চিৎকার করতে থাকি, অসহায়ের মতো দেখি। তার পরে মেয়েদের জোর করে কীটনাশকও খাইয়ে দেয় ওরা। আমার দুই ছেলে ছাদে ঘুমোচ্ছিল। ওরা জানতেও পারেনি, এত বড় বিপদ ঘটে গেছে।”

ঘটনার পরেই ১৫ ও ১১ বছরের দুই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা এখজনকে মৃত বলে জানায়। অন্য জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল, তাকে পাঠানো হয় দিল্লির একটি হাসপাতালে। ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মেয়েকে সেখানে নিয়ে যান মা। চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায় সে-ও।

“আমি কী করে ভুলব ওই রাতটা! ওরা আমায় খুন করে ফেলার হুমকি দেয়! মেয়েদের ভয় দেখিয়ে বলে চিৎকার না করতে। আমায় ঘরের এক কোণে ফেলে চেপে ধরে রাখে একটা লোক। বাকিরা ধর্ষণ করে মেয়েদের। আমি কিচ্ছু করতে পারিনি, এত অসহায় কখনও লাগেনি আমা…”, বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। জানান, সঙ্গে করে কীটনাশকের বোতল এনেছিল দুষ্কৃতীরা। জোর করে খাইয়ে দেয় মেয়েদের।

এর পরে মেয়েদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই, মাকে হুমকি দেয় ধর্ষকরা। তিনি যেন কাউকে কিছু না বলেন, কেউ প্রশ্ন করলে বলেন সাপে কামড়েছে মেয়েদের। ভয়ে, আতঙ্কে প্রথমে সেটাই বলেছিলেন হাসপাতালে। পুলিশের কাছেও জানিয়েছিলেন সাপে কামড়ানোর কথা। কিন্তু পরে, পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়েন তিনি। খুলে বলেন সত্যি ঘটনা। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও শারীরিক নির্যাতন ও বিষক্রিয়ার প্রমাণ মেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার জনের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা হরিয়ানার বাসিন্দা নয়, পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে তারা কাজ করত। ওই নাবালিকাদের পাশের বাড়িতেই ভাড়া থাকত তারা। মঙ্গলবারই অভিযুক্ত চার যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মৃত নাবালিকাদের দাদা বলে, “মা আমাদেরও কিছু বলেনি প্রথমে। সারা রাত কেঁদেছে। ভোর ছ’টা থেকে বমি করতে শুরু করে আমার দুই বোন, ওদের মাথাব্যথা করছিল। তখন থেকে শুরু হয় ছোটাছুটি। মা তখনও কিছু বলেনি আমাদের। পরে সব জানতে পেরেছি।”

You might also like