Latest News

সনিয়ার দুয়ারে উচ্ছেদ অভিযান, কংগ্রেসকে তিন কোটি জরিমানার নোটিস মোদী সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেই ১২ জনপথের বিশাল বাংলোয় উচ্ছেদ (Eviction) অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টরের অফ এস্টেটস। ওই বাড়ি বরাদ্দ ছিল প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাশোয়ানের নামে। তিনি মারা যাওয়ার পরও বাড়ির দখল ছাড়ছিলেন না পুত্র চিরাগ পাশোয়ান। খুলে বসেছিলেন পার্টির দিল্লি দফতর। বেশ কয়েকবার নোটিস উপেক্ষা করায় পরশু মালপত্র বাংলোর বাইরে বের করে দেয় সরকারি এজেন্সি।

শনিবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের ডিরেক্টরেট অফ এস্টেট নোটিস ধরালো দেশের এক নম্বর বিরোধী দল কংগ্রেসকে (Congress)। সেই সঙ্গে তিন কোটি টাকা জরিমানার চিঠি। দিল্লির চাণক্যপুরিতে কংগ্রেস একটি সরকারি বাংলো দখল করে আছে। ওই বাড়িতে একটা সময় থাকতেন সনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত সচিব ভিনসেন্ট জর্জ। ২০১৩ সালে বাড়িটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে নোটিস ধরায় দিল্লির সংশ্লিষ্ট দফতর। কেন্দ্রের ক্ষমতায় তখন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তারপর মোদী সরকারও গত নয় বছরে একাধিকবার নোটিস ধরিয়েছে। গা করেনি সনিয়া গান্ধীর দল। শনিবার সরকার নোটিস ধরিয়ে বলছে, তিন দিনের মধ্যে বাংলো ফাঁকা করে না দিলে উচ্ছেদ অভিযান হবে। এছাড়া দিনের পর দিন অনুমতি ছাড়া বাংলো দখল করে রাখায় জরিমানা বাবদ তিন কোটি টাকা জমা করতে হবে।

১০ জনপথ। সনিয়া গান্ধীর দিল্লির সরকারি বাসভবন। ফাইল চিত্র।

রাম বিলাশের জন্য বরাদ্দ বাংলোটি বর্তমান মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই বাংলোর একটি বাংলো পরেই ১০ জনপথ। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সরকারি বাসভবন। ফলে সনিয়ার বাংলোর দুয়ারেই মোদী সরকার বাংলো দখলমুক্ত করেছে।

সনিয়ার ১০ জনপথের উপর থাবা আসতে পারে কি? সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার আইনে জানা গিয়েছে, ১০ জনপথেরও ভাড়া বেশ কিছুদিন যাবৎ বকেয়া। ওই বাড়ির ভাড়া প্রথম থেকেই কংগ্রেস মিটিয়ে আসছে। যদিও সাংসদ হিসাবে সনিয়ার একটি বাংলো প্রাপ্য। তবে তা ১০ জনপথ মানের হওয়ার কথা নয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর সনিয়ার জন্য ওই বাংলো বরাদ্দ রয়েছে।

কিন্তু গত বছর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দিল্লির বাংলো ফিরিয়ে নিয়েছে সরকার। তিনি এসপিজি নিরাপত্তা পেতেন বলে মন্ত্রী বা সাংসদ না হওয়া সত্ত্বেও দিল্লিতে একটি বাংলো বরাদ্দ হয়েছিল তাঁর নামে। কিন্তু দু বছর আগে মোদী সরকার গান্ধী পরিবারের এসপিজি সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে ভাড়া বকেয়া এবং এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহৃত হওয়ায় সনিয়াকে বাংলো বদল করার কথা বলতেই পারে সরকার, বলেন এক আধিকারিক।

শুধু কংগ্রেস নয়, মোদী সরকারের আগের মন্ত্রিসভার মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়া নিশান্তকেও মন্ত্রী বাংলো ছাড়ার নোটিস ধরানো হয়েছে। তিনি এখন আর মন্ত্রী নন।

কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলেছে আকবর রোডে দলের সদর দফতরও। ওই বাড়িরও ভাড়া বকেয়া। তার উপর পার্টি অফিস গড়ে নেওয়ার জন্য দলকে জমি দেওয়া হয়েছে। জমি পাওয়ার তিন বছরের মাথায় অফিসবাড়ি বানিয়ে নেওয়ার কথা। বিজেপি দু’বছর আগে পার্টি অফিস বানিয়ে নিলেও কংগ্রেস এখনও কাজ শেষ করে উঠতে পারেনি। ফলে আকবর রোডের সদর দফতর নিয়েও চিন্তায় সনিয়ার দল। কারণ, সরকার এবং আদালত উভয়ের মনোভাবই চিন্তার কারণ। চিরাগ পাশোয়ান বাংলা দখলে রাখতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট সাফ বলে দেয়, সরকারি বাংলো পার্টি অফিস খোলার জন্য তৈরি করা হয়নি। এই রায়কে হাতিয়ার করেই বিজেপি সরকার এখন উচ্ছেদ অভিযান আর নোটিস ধরানোর কাজ শুরু করেছে।

‘ভাল আছি, ‘মিলেমিশে আছি’ বলে গৃহ অশান্তি নিয়ে জল্পনা উস্কে দিচ্ছেন উদ্ধবই

You might also like