Latest News

গান্ধী বনাম গেহলট! মরুঝড়ের ভয়েই কি রাজস্থান নিয়ে হাত গুটিয়ে সনিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৯ সেপ্টেম্বর সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসে রাজস্থানের (Rajasthan) মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) ঘোষণা করেছিলেন, দলের সভাপতি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। অন্তর্বর্তী সভাপতি সনিয়া গান্ধীকে ব্যক্তিগত এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, তাঁকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী রাখা হবে কী হবে না, কাকে করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সনিয়াকেই নিতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

গেহলট ১০ জনপথ অর্থাৎ সনিয়া গান্ধীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার খানিক পরেই কংগ্রেসের (Congress) সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল সাংবাদিকদের বলেন, রাজস্থান নিয়ে দু’দিনের মধ্যে কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। সেই সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেছিলেন, এআইসিসির-র একটি প্রতিনিধি দল ফের জয়পুরে যাবে। তাঁরা প্রত্যেক বিধায়কের সঙ্গে একান্তে কথা বলবেন।

তারপর চারদিন কেটে গিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি পদে সব মহলকে অবাক করে দিয়ে গান্ধী পরিবারের পছন্দের প্রার্থী হয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। আগেই প্রার্থী হয়েছিলেন শশী তারুর। ফলে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের কৌতূহলের অবসান হয়েছে। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে খাড়্গের জয় নিশ্চিত।

কিন্তু রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর ইস্যুতে সনিয়া বা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আর উচ্চবাচ্য করছে না। গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে একান্তে বলার চেষ্টা হচ্ছে, নবরাত্রি, দশেরা ইত্যাদি মিটে যাওয়ার পর যা করার করা হবে।

যদিও কংগ্রেস মহলের খবর, দলে এখন সভাপতি পদে লড়াইয়ের থেকেও বড় হয়ে দেখা দিয়ে ঘরের লোক বলে পরিচিত অশোক গেহলট বনাম গান্ধী পরিবারের লড়াই। গেহলট তাঁর পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন সাহসী, বলতে গেলে বৈপ্লবীক পদক্ষেপ করেননি, যা তিনি করেছেন দলীয় সভাপতি পদে প্রার্থী হতে সনিয়া গান্ধীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করে।

অন্যদিকে, সনিয়াও তাঁর ২২ বছরের দলীয় সভাপতি থাকাকালে এমন বিদ্রোহের সম্মুখীন হননি। তাঁর নির্দেশে জয়পুরে যাওয়া এআইসিসি-র দুই প্রথমসারির নেতা খাড়্গে এবং অজয় মাকেনের উপস্থিতিতে যে পরিষদীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা ভেস্তে যায় গেহলট সমর্থকদের অনুপস্থিতির কারণে। খাড়্গে ও মাকেনের উপস্থিতিতে কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠকে সচিন পাইলটকে রাজস্থানের পরবর্তী বিধায়ক হিসাবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল গান্ধী পরিবারের। সেই পরিকল্পনা আঁচ করেই অনুগত বিধায়কদের বিদ্রোহ উসকে দেন গেহলট।

সচিন পাইলটের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে মাত্র ১৭ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, এটা গেহলটের সাজানো তথ্য। বিধায়কদের সঙ্গে একান্তে কথা বললেই বোঝা যাবে তাঁরা কাকে চান। সনিয়া তাই ঠিক করেন, পরেরবার এআইসিসি-র প্রতিনিধিরা প্রত্যেক বিধায়কের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন। কিন্তু চারদিন কেটে গেলেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

কংগ্রেসের অন্দরের খবর, গেহলটের পক্ষে যে বেশিরভাগ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের সঙ্গে একান্তে কথা বললেও সেই সত্যই সামনে আসবে। ফলে সনিয়া, রাহুলরা দিল্লি থেকে সচিন পাইলটকে চাপিয়ে দিলে প্রকাশ্যে গেহলট আপত্তি করবেন না বটে, কিন্তু রাজস্থান আর একটা পাঞ্জাব হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে থাকাকালে গেহলটের সঙ্গে একাধিক কংগ্রেস নেতার কথা হয়েছে। সনিয়ার ঘনিষ্ঠ নেতারাও মরুরাজ্যের এই নেতার মন বোঝার চেষ্টা করেছেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনে হয়েছে, সচিনকে মুখ্যমন্ত্রী করে দিলে সরকার টেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, বিদ্রোহী বিধায়করা আর গেহলটের কথায় কর্ণপাত করবেন না। বছর শেষে ভোট। বিজেপি প্রস্তুত হয়ে আছে বিক্ষুব্ধদের অভ্যর্থনা জানাতে।

শরতে বিপাকে হেমন্ত! ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাঙ্কের পাসবই বাজেয়াপ্ত করল ইডি

কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই রাজনৈতিক মরুঝড়ের আশঙ্কাতেই সনিয়া রাজস্থান নিয়ে ব্রেক কষেছেন। কারণ, পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী বদলের জেরে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহের দল ছেড়ে নতুন দল গড়া, নির্বাচনে ভরাডুবি ইত্যাদির দায় চেপেছিল রাহুলের উপর। সনিয়া তখন অসুস্থ থাকায় রাহুলই সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। ফলে পাঞ্জাবে ভরাডুবি নিয়ে সনিয়ার দিকে আঙুল ওঠেনি। কিন্তু রাজস্থান নিয়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত করেছেন।

আসলে দু’বছর আগে সচিন পাইলটের বিদ্রোহ থামাতে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী প্রয়াত রাজেশ পাইলটের পুত্র সচিনকে কথা দিয়েছিলেন, পরেরবার তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। পাইলট ছিলেন রাজীব, সনিয়াদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা। সেই সূত্রে সচিন ঘনিষ্ঠ রাহুল, প্রিয়ঙ্কাদের। তাঁদের কাছাকাছি বয়স।

সচিনকে দেওয়া মেয়ের সেই আশ্বাসবাণীও রাজস্থানে কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভাপতি। কিন্তু তার জেরে ঘরের লোক গেহলটের সঙ্গে যে গান্ধী পরিবারের লড়াই বেঁধে যাবে, কেউ কল্পনাও করেনি। এখনও পর্যন্ত অবমাননা, মর্যাদাহানি যা হওয়ার সনিয়ারই হয়েছে। গেহলটকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে তা নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা করে নিতে চান তিনি।

You might also like