Latest News

Sonia : উদয়পুরে ডাক না পেয়ে গোঁসা, বঞ্চিতদের জন্য এবার একদিনের চিন্তন শিবির সনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজস্থানের উদয়পুরে চিন্তন শিবির চলাকালেই চিন্তা বাড়ছিল কংগ্রেসের। বিভিন্ন প্রদেশের নেতারা কানাকানি করছিলেন ডাক না পাওয়া নেতাদের গোঁসা নিয়ে। অনেক নেতাকে শিবিরে না দেখতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন আমন্ত্রিতরাও। চিন্তন শিবির শেষে শীর্ষ নেতাদের কাছে রাজ্যগুলি থেকে ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে ফোনে, মেল-এ। কেউ মুখোমুখি দেখা করে বলে এসেছেন, এমন শিবিরে ডাক না পেলে এলাকার নেতা-কর্মীরা আমাকে গুরুত্ব দেবেন কেন? কোন মুখে তাঁদের বলব, বিজেপিতে যেও না।

ক্ষোভের কথা সনিয়া (Sonia) গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের কানে তুলেছেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কিছু সদস্য। কে, কোন মানদণ্ডে আমন্ত্রিতের তালিকা তৈরি করেছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সনিয়া গান্ধী (Sonia) জানিয়েছেন, প্রদেশ কংগ্রেসগুলির কার্যকরী সভাপতি, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি, সক্রিয় প্রবীণ নেতাদের নিয়ে একদিনের একটি শিবির করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে দিনভর সনিয়া গান্ধী উপস্থিত থাকবেন। সব রাজ্যের একজন করে নেতাকে বলতে দেওয়া হবে। সনিয়া (Sonia), রাহুলরা মুখোমুখী বসে সকলের বক্তব্য শুনবেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা খুঁজতে দল যখন উদয়পুরের শিবিরে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল তারই মধ্যে কেরলের বর্ষীয়ান নেতা তথা পাঁচবারের সাংসদ কে বি থমাসকে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করতে হয়েছে। শিবির চলাকালীন সময়ে ফেসবুকে গুচ্ছ অভিযোগ তুলে দল ছাড়েন পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল জাখর। বৃহস্পতিবার তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

চিন্তন শিবির শেষের দিন কয়েকের মধ্যে দল ছেড়েছেন গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি হার্দিক প্যাটেল। শোনা যাচ্ছে তিনিও যেতে পারেন বিজেপিতে। একমাত্র বর্ষীয়ান থমাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কংগ্রেস তাঁকে তাড়ালেও তিনি এই দলকে ছেড়ে যাবেন না।

কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড মনে করছে, চিন্তন শিবিরের পর বিজেপি নতুন করে দল ভাঙানোর খেলা শুরু করতে চাইছে কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে। বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে থাকা অনেকে চিন্তন শিবিরে ডাক না পাওয়াকে অজুহাত করছে।

যদিও শিবির শেষে কংগ্রেস হাইকমান্ডও মনে করছে, আমন্ত্রিতের তালিকা তৈরিতে ক্রটি ছিল। এমনকি কার নির্দেশে তালিকা তৈরি করেছিল তা নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। কারণ, শিবিরে কানহাইয়া কুমার উপস্থিত ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে নেই। গুজরাতের নির্দল বিধায়ক জিগনেস মেওয়ানিও ডাক পেয়েছিলেন চিন্তন শিবিরে।

অথচ, যে রাজ্যে চিন্তন শিবির বসেছিল সেই রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শচীন পাইলট ছাড়া বাকিদের প্রবেশাধিকার ছিল না শিবিরে। যদিও শিবিরের যাবতীয় আয়োজন মন্ত্রীদের করতে হয়েছে। রাজস্থান ছাড়া কংগ্রেস ক্ষমতায় আছে ছত্তিশগড়েও। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী বাদে আর কোনও মন্ত্রী শিবিরে ডাক পাননি।

রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পর কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং যৌথ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সব রাজ্যেই প্রদেশ সভাপতি সঙ্গে বেশ কয়েকজনকে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। অনেক রাজ্যেই তাঁরা বেশ সক্রিয়। কিন্তু চিন্তন শিবিরে ডাক পাননি। এমন নেতাদের গোঁসা ভাঙাতেই ফের একদিনের চিন্তন শিবির করতে চলেছে কংগ্রেস।

আরও পড়ুন : পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির হিসাব চাইল কলকাতা হাইকোর্ট, ফের জেরা শিগগির

You might also like