Latest News

ছেলেবেলায় ফিরে গেল বাঙালি, নারায়ণ-স্মরণের জোয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ছোটবেলাকে সার্থক করে তোলার জন্য ধন্যবাদ…’, কিংবা, ‘আমাদের অনেকটা ছোটবেলা নিয়ে চলে গেলেন…’ নারায়ণ দেবনাথের চলে যাওয়ায় অনেকের কাছেই তাজা হয়ে উঠল শৈশব। সোশ্যাল মিডিয়া তাই মজে আছে ‘শৈশবের স্মৃতিচারণায়’। কারও কাছে গরমের ছুটির সঙ্গী, কারও কাছে আবার নতুন বইয়ের অপেক্ষা। বইমেলা মানেই যে নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টিসম্ভারে মজে উঠতেন অনেকে, তাও মনে করাচ্ছেন কেউ কেউ।

সোশ্যাল মিডিয়ার বাসিন্দারা তাঁর চলে যাওয়াকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলছেন। পাশাপাশি অনেকের পোস্টেই উঠে আসছে ছোটবেলার স্মৃতি। বলাই চলে, একটা সময় ছিল বাঙালির ছোটবেলা মানেই ‘নন্টে ফন্টে’, ‘হাঁদা-ভোঁদা’ বা ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। তাই অনেকেই বলছেন ‘ছোটবেলা সত্যিই হারিয়ে গেল…’মঙ্গলবার সকালে তাই বহু বাঙালিকেই নারায়ণবাবুর সঙ্গে স্মৃতির সরণিতে হাঁটতে দেখা গেল। তাঁরা ফিরে গেলেন শৈশবের দিনগুলিতে। বাচিকশিল্পী সাম্য কার্ফা ফেসবুকে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লেখেন, ‘ছেলেবেলার গরমের ছুটির সকালগুলো শুরুই হত নন্টে ফন্টের হাত ধরে। ঘুম থেকে উঠেই কমপ্ল্যান খেতে খেতে ওই বইগুলো নিয়ে বসে পড়তাম। শেষ হল সেই ছেলেবেলার গল্পগুলো। তবে, রইল নন্টে ফন্টে, বাঁটুলরা। আরও অনেক ছেলেবেলাকে রঙিন করবে বলে…’

সব মিলিয়ে নেটিজেনদের কথায়, ‘যতদিন বাংলা সাহিত্য বেঁচে থাকবে, যতদিন বাংলার চিত্রশিল্প বেঁচে থাকবে..ততদিন নারায়ণ দেবনাথও বেঁচে থাকবেন…’

সত্যিই আমরা বলতে পারি, ‘আমাদের একজন নারায়ণ দেবনাথ ছিল। আমাদের একজন নারায়ণ দেবনাথ আছে।’, যেমনটা লিখেছেন অভিরূপ চক্রবর্তী। ছোটবেলাকে সার্থক করে তোলার জন্যও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘অনেক সাহিত্যই নারায়ণ দেবনাথকে পায়নি… তাই বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমৃদ্ধ।’তাঁর কার্টুনে ও কমিক্সে মুগ্ধ থাকা বাঙালি আজ ফেসবুকের দেওয়ালে ভরিয়ে দিচ্ছেন এটা বলে যে, ‘স্রষ্টা চলে গেলেও সৃষ্টি রয়ে গেল।’ অনেকে তাঁদের পেন-পেন্সিল বা তুলির টানে ফুটিয়ে তুলছেন নারায়ণবাবু ও তাঁর সৃষ্টি চরিত্রগুলোকে। সেখানে লিখছেন, ‘আমি চললাম, তোরা ভালো থাকিস’। যদিও সৃষ্টিগুলোও বলে উঠছে, ‘তুমি ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে মাটি!’ হয়তো মজার ছলে উঠে এলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে আদৌ কী গুরুত্ব পায় এই সৃষ্টিগুলো? এমন অনেক প্ৰশ্নও উঠে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

প্রিয়ম সেনগুপ্ত আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, “হাঁদা আর ভোঁদার মধ‌্যে খটাখটি লাগতো ঠিকই। কিন্তু বন্ধুত্বে কখনও চিড় ধরেনি। বাচ্চু আর বিচ্ছু বাঁটুলের কাছে বারবার শায়েস্তা হয়েও থাকত একই বাড়িতে। বারবার সুপারিনটেন্ডেন্ট স্যার কেল্টুর উসকানিতে ভুল বুঝেছেন নন্টে আর ফন্টেকে। তবু প্রি–আরাবুল জমানায় জলের জাগ ছুড়ে মারা তো দূরে থাক, স্যারের ওপরে রাগটুকুও করেনি তারা। ঝগড়া–ঝামেলা–মনকষাকষি তো থাকবেই। তবু দিনের শেষে একসঙ্গে বেঁধেবেঁধে থাকাটাই আসল। এটাই বাঙালির মূল্যবোধ। কমিকসে সেটা দেখানো চাট্টিখানি কথা নয়। … নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন। ভাগ্যিস ছিলেন।আবার দেবযানী ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ছোটদের তা পড়ানোর অভ্যেস করতে হবে। তিনি লেখেন, ‘এত হাহুতাশের আয়ু দুদিন না হয়ে সন্তানসন্ততিদের নিয়ম করে বাঁটুল হাঁদা ভোঁদা ইত্যাদি প্রভৃতি শোনানোর অভ্যাস আমাদের মধ্যে তৈরি হবে আশা রাখি।’ কেউ কেউ বলছেন, ‘আগামী প্রজন্মের হাতে নন্টে ফন্টে তুলে দিন…’ সত্যি এই সৃষ্টিগুলো তুলে দেওয়া উচিত।অনেকাংশে এই সৃষ্টিগুলো বর্তমান প্রজন্ম থেকে হারিয়ে যেতে বসলেও অনেক পরিবারে এখনও বেঁচে আছে। শুধু এখানে নয়, বিদেশে থেকেও যে সৃষ্টিগুলো ভোলা যায় না তেমন কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। এক নেটিজেনের কথায়, ‘এখনও আমার নাতনী দেশের বাইরে থেকেও হাঁদা ভোদা , বাঁটুল , নন্টেফন্টে পড়ে। এ কোনদিন পুরানো হবে না…’ এভাবেই সৃষ্টির মধ্যে প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকুক নারায়ণ দেবনাথ। প্রার্থনা নেটিজেনদের।তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য পরিচিত হয় কমিক্সের সঙ্গে। বলাই চলে একক চেষ্টায় বাংলা কমিক্সকে বিশ্ব দরবারে স্থান করিয়েছিলেন তিনি। আজও তিনি মিশে আছেন অনেকের ‘ছোটবেলা’র সঙ্গে। তাঁর চলে যাওয়ায় মর্মাহত বাঙালি।

You might also like