Latest News

এক্সক্লুসিভ: দক্ষিণেশ্বরের পর এ বার স্কাইওয়াক হবে কালীঘাটেও

রফিকুল জামাদার

কালীপুজোর প্রাক্ সন্ধ্যায় দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াকের উদ্বোধনের সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কালীঘাট নিয়েও তাঁর মাথায় ভাবনা রয়েছে। কালীঘাটের মন্দিরে পুরোহিত-সেবায়েতরা চাইলে সেখানেও স্কাইওয়াক হতে পারে।

বলা মাত্র কাজ। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তথা কেএমডিএ সূত্র জানাচ্ছে, অচিরে স্কাইওয়াক হবে কালীঘাটেও। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রোড থেকে কালীঘাটে কালী মন্দিরের প্রায় দোরগোড়া পর্যন্ত ওই প্রস্তাবিত ওই স্কাইওয়াকের দৈর্ঘ্য হবে ৪৫০ মিটার। সে জন্য খরচ হবে আনুমানিক ১২৫ কোটি টাকা।

কেএমডিএ-র এক কর্তা জানান, দক্ষিণেশ্বরের মতোই কালীঘাটের স্কাইওয়াকের সঙ্গেও থাকবে তিন জোড়া এসকেলেটার।

পুর কর্তারা জানাচ্ছেন, কালীঘাটে মন্দির যাওয়ার রাস্তায় দুপাশে যে ভাবে হকার ও ডালাওয়ালা ছড়িয়ে বসেছে তাতে দর্শনার্থীদের অসুবিধা হয় বৈকী। স্কাইওয়াকের উদ্দেশ্যই হল দর্শনার্থীদের সুষ্ঠুভাবে যাতায়াতের সুবিধা করে দেওয়া। ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম হল কালীঘাট। শনি-মঙ্গলবার তো বটেই অমাবস্যায় কালীঘাটে ভিড় উপচে। প্রতিদিন ভিন রাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ আসেন দক্ষিণাকালী মাকে পুজো দিতে। কলকাতার এমন একটি দর্শনীয় স্থানের পরিকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

যদিও অনেকে এর মধ্যেও রাজনীতি দেখছেন। তাঁদের মতে, রাজ্যের মন্দিরগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে হালফিলে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে তৃণমূল সরকারের মধ্যে তার নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনে বাংলায় উগ্র হিন্দুত্বের পথে এগোচ্ছে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার। এই অবস্থায় তৃণমূলও দেখাতে চাইছে যে তারা বিজেপি-র থেকেও বড় হিন্দু। এবং বাংলার হিন্দুরা রামের পুজোর তুলনায় যেহেতু দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী মায়ের পুজো করেন, তাই তা দক্ষিণেশ্বর-কালীঘাটের মন্দিরের সংস্কার নিয়ে কৌশলে বেশি আগ্রহ দেখানো শুরু হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল সেই অভিযোগ খারিজ করে দিতে চেয়েছে। দলের এক মুখপাত্র এ দিন বলেন, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাছে স্কাইওয়াকের উদ্বোধনের অনেক আগেই বীরভূমে কঙ্কালিতলা মন্দির, নলহাটেশ্বরী মন্দির, তারকেশ্বর মন্দির, গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকার সংস্কার হয়েছে। বিজেপি-র এতোটাই অন্ধ যে সেগুলো চোখে পড়ে না। 

You might also like