Latest News

হাসিনার আসন্ন ভারত সফরেই হোক তিস্তা চুক্তি, জয়শঙ্করকে আর্জি ঢাকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং সেদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গত বছর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা সফরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে ভারত কতটা গুরুত্ব দেয়, ওই সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট। এবার ভারত সফরে (India Tour) আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (sheikh hasina)। তাঁর সফর সূচি চূড়ান্ত না হলেও জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে কী কী বিষয়ে আলোচনা চায় দুই দেশ।

তারই মহড়া হয়ে গেল বৃহস্পতিবার, ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনের বৈঠকে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আর্জি জানান, তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরেই তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করা হোক। এই ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

আসলে তিস্তা জল চুক্তি এখন আর শুধু বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী বছর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সামনে এখনও কোনও বড় চ্যালেঞ্জ নেই। তবে পরিস্থিতি একটু একটু করে বদলাচ্ছে। বিরোধীরা এক ছাতার তলায় আসার চেষ্টা শুরু করেছে। তাছাড়া, রাষ্ট্রীয় পীড়ন, মানবাধিকার হরণের মত কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এজেন্সির কু-নজরে রয়েছে হাসিনার সরকার। আবার ভূ-রাজনৈতিক কারণে আমেরিকার বাইডেন প্রশাসনও কিছু অস্বস্তিকর পদক্ষেপ করেছে সম্প্রতি।

তাই ভোটের আগে তিস্তা চুক্তি সেরে ফেলতে পারলে বাকি সব ইস্যু চাপা দেওয়া সম্ভব হবে বলে বাংলাদেশ সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব মনে করছে, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।

কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি মোদী সরকারের হাতে নেই। এই ব্যাপারে শেষ কথা বলবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এখনও চুক্তিতে সায় দেননি। বাংলাদেশ মনে করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি তোলার পর দশ বছর কেটে গিয়েছে। এতদিনে তিস্তার জলস্তরের পরিবর্তন হয়েছে। সেটা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিবেচনা করুন, চায় ঢাকা।

জয়শঙ্কর আজ একটি উচ্চপর্যায়ের টিম নিয়ে ঢাকা গিয়েছেন। দুপুরে গণ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সন্ধ্যায় দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রী বৈঠকে বসেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সব বিষয় নিয়েই কথা হয়। বাংলাদেশ সম্প্রতি তাদের মুক্তি যুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় সেনার পরিবারের ২০০ সদস্যকে স্কলারশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ওঠে সেই প্রসঙ্গও। আলোচনায় বাংলাদেশের তরফে বলা হয় ভারত যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারের উপর চাপ তৈরি করে। ঢাকা থেকে জয়শঙ্কর আগামীকাল সকালে ভুটান যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী হতে চাই, নিজের মুখেই বললেন বহেনজি

You might also like